haji dinas

দিনাজপুর হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক ১ম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষার রেজাল্ট সিটের অপেক্ষামান তালিকায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ফলে ‘এ’ এবং ‘এফ’ দুটি ইউনিটের অপেক্ষামান তালিকায় ভর্তি সাময়িকভাবে কর্তৃপক্ষ স্থগিত রেখেছে। তাৎক্ষণিকভাবে এ অনিয়মের প্রতিবাদ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, সোমবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার জন্য অপেক্ষামান তালিকায় প্রথম সারিতে সুযোগ পাওয়া ২৫ শিক্ষার্থীকে ভর্তি হতে গেলে তাদের ভর্তি নিতে অপারগতা প্রকাশ করে কর্তৃপক্ষ। প্রথম সারিতে সুযোগ পাওয়া ২৫ শিক্ষার্থীকে বাদ দিয়ে পরের ২৫ জনকে সুযোগ দেয়ায় শিক্ষার্থীদের মাঝে উত্তেজনা দেখা দেয়। সুযোগবঞ্চিত শিক্ষার্থীরা এ নিয়ে দায়িত্বরত শিক্ষকদের সঙ্গে বাক-বিতণ্ডা দেখা দেয়। এ অনিয়মের প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। এতে যোগ দেন অন্য শিক্ষার্থীরাও।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সংবাদ সম্মেলন করেছে। সংবাদ সম্মেলনে জনসংযোগ বিভাগের পরিচালক প্রফেসর ড. শ্রীপতি শিকদার অভিযোগের বিষয়টি স্বীকার করে বলেছেন, অভিযোগ পাওয়ার পর ‘এ’ এবং ‘এফ’ ২টি ইউনিটের অপেক্ষামান তালিকায় ভর্তি সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। অভিযোগ তদন্ত করে কেউ জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

প্রসঙ্গত, গত ৫-৮ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক ১ম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

এদিকে শনিবার দিনাজপুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের পরিসংখ্যান বিভাগের ডিজিটাল ল্যাব থেকে বিভাগীয় চেয়ারম্যানের ৪০টি কম্পিউটারের প্রয়োজনীয় হার্ডডিক্স ও যন্ত্রাংশ চুরি হয়ে গেছে। এ নিয়ে ব্যাপক তোলপাড় চলছে বিশ্ববিদ্যালয়ে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. মো. সাফিউল আলম বাদী হয়ে দিনাজপুর কোতয়ালি থানায় একটি মামলা করেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. মো. সাফিউল আলম জানান, শনিবার সকাল পৌনে ৮টার সময় নিরাপত্তা কর্মকর্তার কাছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ চুরির বিষয়টি অবগত হন। পরে পুলিশে খবর দিলে পুলিশ সিজার লিস্টের মাধ্যমে ড. এম.এ.ওয়াজেদ ভবনের বিজ্ঞান অনুষদের পরিসংখ্যান বিভাগের ডিজিটাল ল্যাব এর ৪৩৬ নম্বর রুমে বিভাগীয় চেয়ারম্যানের ৪০টি কম্পিউটারের হার্ডডিক্স ও কিছু যন্ত্রাংশ নেই বলে জানান। তাৎক্ষণিকভাবে ল্যাবের দায়িত্বে কর্মকতা ড. উত্তম কুমার মজুমদার ডিজিটাল ল্যাব অনুসন্ধান করে দেখতে পান হার্ডডিক্স র‌্যাম, প্রসেসরসহ অন্যান্য যন্ত্রাংশ এবং সিসি ক্যামেরার ভিডিআর রেকর্ডিং যন্ত্রপাতি নিয়ে যায়।

এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন কোতয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ফখরুল ইসলাম। তিনি বলেন, কম্পিউটারগুলো সাজানোই রয়েছে। শুধু বিভাগীয় চেয়ারম্যানের ৪০টি কম্পিউটারের হারডিক্স কে বা কারা খুলে নিয়ে গেছে। সাথে কিছু যন্ত্রাংশও খোয়া গেছে।

বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে তা বলা যাবে কিভাবে ঘটেছে এই ঘটনা।

এদিকে এতো নিরাপত্তা সত্তেও কিভাবে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের পরিসংখ্যান বিভাগের ডিজিটাল ল্যাব থেকে বিভাগীয় চেয়ারম্যানের ৪০টি কম্পিউটারের প্রয়োজনীয় হার্ডডিক্স ও যন্ত্রাংশ চুরি হয়ে যায়- তা নিয়ে ব্যাপক রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, শুক্রবার রাত আড়াইটার দিকে একদল চোর বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. ওয়াজেদ ভবনের চতুর্থ তলায় উঠে। সেখানে তারা নৈশপ্রহরী আনসার সদস্য মাসুদ রানাকে একটি ঘরে আটকে রেখে পরিসংখ্যান বিভাগের আধুনিক ডিজিটাল ল্যাবের ৩৯টি কম্পিউটারের হার্ডডিস্ক, প্রসেসর ও র‌্যামসহ অন্যান্য যন্ত্রপাতি নিয়ে যায়। এছাড়াও তারা পরিসংখ্যান বিভাগের চেয়ারম্যানের কক্ষে প্রবেশ করে সেখানকার আরও একটি কম্পিউটারের হার্ডডিস্কসহ অন্যান্য সরঞ্জামাদি নিয়ে যায়। এসময় তারা ক্লোজড সার্কিট (সিসি) ক্যামেরার ডিভিআর রেকর্ডিং যন্ত্রটি খুলে নিয়ে যায়। সকালে আনসার সদস্য মাসুদ রানাকে ঘরে আটকানো অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

ড. উত্তম কুমার মজুমদার আরো জানান, হ্যাকেপ প্রকল্পের অর্থায়নে এই আধুনিক ডিজিটাল ল্যাবটি স্থাপন করা হয়। এই ল্যাবসহ তার অফিসের কম্পিউটারে মূল্যবান তথ্য ছিল, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে জানান তিনি।

তিনি ধারণা করছেন, চোরেরা শুধু কম্পিউটার সরঞ্জামাদি নয়, তারা পরিকল্পিতভাবে বিশ্ববিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের মূল্যবান তথ্য চুরি করে নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যেই এই চুরি সংঘটিত করেছে।

পরিসংখ্যান বিভাগের চেয়ারম্যান আরো জানান, চুরি যাওয়া সরঞ্জামাদির মূল্য আনুমানিক ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা।

দিনাজপুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে নতুন ভিসি এবং সাবেক ভিসির মধ্যে দ্বন্দ্বে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারী এবং শিক্ষার্থীরা।

এনিয়ে উভয়ের মধ্যে একে অপরের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন, মানববন্ধন, হামলা-পাল্টা হামলা ও মামলার ঘটনাও ঘটেছে। এ ঘটনাকে পুজি করে কোন পক্ষ একে অপরকে দোষারোপ করার জন্য ফায়দা লুটতে চুরির নাটক সাজিয়েছে কিনা তাও পুলিশ এবং গোয়েন্দা বিভাগ খতিয়ে দেখছে।