family

হাবিবুর ইসলাম ও তার স্ত্রী নাসিমা দুজনই চাকরিজীবী। তাদের দুই সন্তানের মধ্যে মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। আর ছেলে সদ্য চাকরিতে ঢুকেছে। কর্মব্যস্ততায় নিজেদের জন্য সময় মেলা ভার।

হাবিবুর ইসলাম বলেন, ‘সন্তানদের লেখাপড়া চলাকালেও রাতের খাবার একসঙ্গে খাওয়া হতো। কিন্তু এখন অফিস থেকে ফিরতেই ছেলের রাত প্রায় ১১টা বেজে যায়। তারপরও বন্ধের দিনগুলোতে আমরা অন্তত একটি বেলা একসঙ্গে খাবার টেবিলে বসতে চেষ্টা করি। অনেক সময় সেটাও সম্ভব হয় না। এতে দূরত্ব বাড়ছে সন্তানদের সঙ্গে।’

শুধু হাবিবুর-নাসিমা দম্পতি নয়, এ সমস্যা প্রায় সব পরিবারের। সময়ের পরিক্রমায় প্রাত্যহিক জীবন যাপন কঠিন থেকে কঠিনতর হয়ে উঠছে।

অফিস থেকে বাড়ি ফিরেও স্বস্তি নেই। ঘরে ফিরে পরিবারের সদস্যরা যে যার মতো সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে সামাজিকতা রক্ষায় ব্যস্ত। পাশে থাকা মানুষটিকে খেয়াল করার সময় নেই।

আজকাল ভাইবোনেরাও নিজেদের মধ্যে গ্রুপ চ্যাটে কথা বলে। অর্থাৎ, পরিবারের সদস্যরাও ভার্চুয়াল বন্ধনে আবদ্ধ। এতে প্রভাব পড়ছে সামাজিক সম্পর্কগুলোতে। সামাজিক অবক্ষয়েরও কারণ হয়ে উঠেছে ভার্চুয়াল সম্পর্ক। মনোবিদেরা বলছেন, সুস্থ স্বাভাবিক জীবনের মূলমন্ত্র- পরিবারের সঙ্গে পর্যাপ্ত সময় কাটনো। এই পারিবারিক সময় যে খুব আয়োজন করে কাটাতে হবে এমন কোনো কথা নেই।

হাফিংটন পোস্টের এক প্রবন্ধে বলা হয়, টেলিভিশন, ট্যাব,স্মার্টফোন আর ল্যাপটপ ব্যবহারের মধ্যদিয়ে খাবার টেবিলে জায়গা করে নিয়েছে প্রযুক্তি। এসব ডিভাইস দূরে সরিয়ে খাবার টেবিলে গল্প করুন পরিবারের সব সদস্য মিলে। বাবা-মায়েরই মুখ্য ভূমিকা পালন করতে হবে একে পারিবারিক নিয়মে পরিণত করতে।

পরিবারের নিজেদের সদস্যদের সঙ্গে একান্তে সময় কাটাতে মাসে অন্তত একদিন সবাই মিলে ঘুরতে যান। এছাড়াও কোন আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। এতে আত্মীয়তার বন্ধনও দৃঢ় হবে।

পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠদের সঙ্গে বাচ্চাদের যোগাযোগ তৈরি করুন। এতে ছোটদের মধ্যে পারিবারিক মূল্যবোধ তৈরি হবে। মাঝে মধ্যে পুরনো ফ্যামিলি অ্যালবাম দেখুন সবাই মিলে। স্মৃতিচারণেও বর্তমান প্রজন্ম পারিবারিক ঐতিহ্য সম্পর্কে অবহিত হয়।

পারভীন আক্তার গৃহিণী। দাদা -দাদি ও নানা-নানির আদর পাওয়ার সৌভাগ্য হয়নি তার সন্তানদের, গভীর দুঃখের সঙ্গে জানালেন তিনি। খুব ছোটবেলায় দাদাকে কিছুটা সময় কাছে পেলেও সন্তানদের কাছে সেই স্মৃতি ঝাপসা। পারিবারিক মুল্যবোধ তৈরিতে বয়োজ্যেষ্ঠদের অভাব বোধ করেছেন বরাবরই।

এছাড়া ধর্মীয় অনুশাসন চর্চার মাধ্যমেও আমরা নতুন প্রজন্মকে জীবন বোধ সম্পর্কে জানাতে পারি। ধর্মীয় অনুশাসনে পারিবারিক বন্ধনকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়।

হাহাকারের জীবনে পরিবারই শেষ আশ্রয়স্থল, সেটা আমাদের মাথায় রাখতে হবে সবসময়। এই যে এত কর্মযজ্ঞ, তার সবই পরিবারের জন্য। তাই খেয়াল রাখতে হবে, কাজ যেন পরিবারকে অবহেলার কারণ না হয়ে ওঠে।