dollar

রাজশাহীতে ডলার সংকট তীব্র হয়েছে। ডলারের প্রয়োজনে লোকজন এক ব্যাংক থেকে আরেক ব্যাংকে ছোটাছুটি করছেন।

ভুক্তভোগীরা বলছেন, বাণিজ্যিক ব্যাংকের শাখাগুলোয় বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে পর্যাপ্ত ডলার সরবরাহ না হওয়ায় গ্রাহকরা স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় ডলার কিনতে পারছেন না।
ফলে বাধ্য হয়ে চড়া দামে বিভিন্ন মানি চেঞ্জারদের কাছ থেকে ডলার সংগ্রহ করে করছেন। গত কয়েকদিনে ডলারের সংকট তীব্র হওয়ায় আরও বিপাকে পড়েছেন বিভিন্ন প্রয়োজনে বিদেশ গমনেচ্ছুরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহীতে শুধু ভারতগামী যাত্রীদের জন্য দৈনিক ৭০ হাজার থেকে ১ লাখ ডলারের প্রয়োজন হয়। বিশেষ করে ভারতে চিকিৎসাসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে ভ্রমণেচ্ছুদের ভিসার আবেদনের সঙ্গে ব্যাংক থেকে ডলার সংযুক্তিকরণপত্র সংযোজন আবশ্যক করেছে রাজশাহীর ভারতীয় সহকারী হাইকমিশন দফতর।

সূত্র মতে, আগে পাসপোর্টে বিভিন্ন মানিচেঞ্জারের দেয়া ডলার সংযুক্তিকরণপত্র জাল ধরা পড়ায় ভারতীয় হাইকমিশন ব্যাংক থেকে কেনা ডলার সংযুক্তিকরণপত্র অনেকটা বাধ্যতামূলক করেছেন। এ কারণে ভারতে গমনেচ্ছুরা বিভিন্ন ব্যাংকে ছুটছেন ডলার কিনতে। কিন্তু গতকাল মঙ্গলবার রাজশাহীর কোনো ব্যাংকে ডলার পাওয়া যায়নি। ফলে অনেকেই ভিসার জন্য আবেদনও জমা দিতে পারেনি।

আব্দুল মোমিন নামের একজন ভারত গমনেচ্ছু জানান, তার আত্মীয়কে নিয়ে জরুরি চিকিৎসার জন্য চেন্নাই যাবেন। এ জন্য তার ৫০০ ডলার প্রয়োজন। কিন্তু তিনি কোথাও ডলার পাননি। ফলে ভিসার আবেদনও জমা দিতে পারেননি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট শাখার একটি সূত্র জানায়, রাজশাহীতে ডলার, পাউন্ড ও ইউরো বিক্রির অনুমোদন রয়েছে সোনালী, অগ্রণী, পূবালী, জনতা, উত্তরা, এসআইবিএল, ইসলামি, ইউসিবিএল, ন্যাশনাল, এবি, আইএফআইসি ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের কর্পোরেট শাখাগুলোতে।

একাধিক গ্রাহক জানায়, গত রোববার থেকে রাজশাহীর কোনো ব্যাংকে ডলার পাওয়া যাচ্ছে না। ডলার কিনতে গেলে ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, ডলার নেই। কেন নেই এর উত্তরও তারা দিচ্ছে না কাউকে।

ইউসিবিএল ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা বলেন, ডলার সরবরাহ নেই। ফলে অনেকেই আসছেন। কিন্তু আমরা ডলার দিতে পারছি না।

এসআইবিএল রাজশাহী শাখার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বলেন, মঙ্গলবার ডলার দিতে পারবেন না। বুধবার পাওয়ার সম্ভাবনা আছে। তবে বুধবার দুপুর পর্যন্ত এ সংকট কাটেনি।

ভুক্তভোগীরা জানান, রাজশাহীতে ভারতগামী যাত্রী ছাড়াও বিভিন্ন দেশে যাতায়াতের প্রয়োজনে ডলারের চাহিদা রয়েছে। কিন্তু ব্যাংকগুলো থেকে ডলার দেয়া হচ্ছে না। তবে মানিচেঞ্জারদের কাছে ডলারের সংকট নেই। ব্যাংকে সংকটের ফলে মঙ্গলবার মানিচেঞ্জাররা ডলারের দাম দুই থেকে তিন টাকা বাড়িয়ে দেন। এতে বিদেশ গমনেচ্ছুরা আর্থিক ক্ষতি জেনেও জরুরি প্রয়োজনে ডলার কিনেছেন।

রাজশাহীতে ডলার সংকটের কথা স্বীকার করেন বাংলাদেশ ব্যাংক রাজশাহী শাখার বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগের উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) এএফএম নাসিমুল আখতার। কিছুদিন ধরেই রাজশাহীতে ডলার সংকট চলছে বলে জানান তিনি।

তবে কেন এই সংকট তা জানাতে অপরাগতা প্রকাশ করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের এ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। এ নিয়ে তিনি আরও বলেন, এটা ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নীতির বিষয়। এটা ব্যাখ্যা করে বলা সম্ভব নয়।

কবে নাগাদ ডলার সংকটের অবসান হবে, সেটাও জানাতে পারেননি তিনি। একইভাবে রাজশাহীতে ডলারের চাহিদা ও যোগানের পরিমাণও তিনি জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন।