job

আধুনিক যুগে মানুষ অর্থপূর্ণ এবং তৃপ্তিকর চাকরি খোঁজেন। অনেকে তার খোঁজও পেয়ে যান। অথচ মানব সভ্যতার ইতিহাসে এমনও সব চাকরি কথা লিপিবদ্ধ রয়েছে, যার কথা শুনে আঁতকে উঠবেন আপনি। এখানে জেনে এমনই কয়েকটি চাকরির কথা। একটা সময় এগুলো ‘উদ্ভট চাকরি’ হিসাবে গণ্য হতো।

১. ফুলার : প্রাচীন রোমে ময়লা কাপড় ধৌতকারীদের ফুলার বলা হতো। এ পেশা এখনো প্রচলিত রয়েছে। তারা ধোপা নামে পরিচিত। কিন্তু প্রাচীন রোমের ফুলাররা পাবলিক রেস্টরুম থেকে অতি নোংরা কাপড় সংগ্রহ করে পানি ও ক্ষার মিশ্রিত রাসায়নিক পদার্থের মাধ্যমে তা ধুয়ে দিতেন।

২. গ্রুম অব দ্য স্টুল : দুর্গন্ধময় পরিবেশে এ কাজ করতে হয়। আনুষ্ঠানিকভাবে এ পদের নাম গ্রুম অব দ্য কিংস ক্লোজ স্টুল। এর মাধ্যমে সেই ব্যক্তিকে বোঝানো হয় যিনি রাজাকে মলত্যাগে নিয়ে যেতে সহায়তা করেন। নব্য আধুনিক ইংল্যান্ডে এটি বেশ বড় পদের চাকরি বলে গণ্য হতো। এ পদে চাকরিরতরা রাজার অনেক গোপন তথ্য জানতেন, আদালতে বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগসহ নানা ক্ষমতা ভোগ করতেন।

৩. রিসারেকশনিস্ট : এরা কবর থেকে মৃতদেহ খুঁড়ে বের করতেন। তারপর এগুলো মেডিক্যাল স্কুলে বিক্রি করে দিতেন তারা। এই বিতর্কিত পেশাটি উঠে আসে ১৯ শ শতকে। সেই সময় উইলিয়াম বার্কে এবং উইলিয়াম হারে নামের দুই সিরিয়াল কিলারের অপরাধ প্রকাশিত হওয়ার রিসারেকশনিস্টের বিষয়টি উঠে আসে। আসলে তারা মানুষ খুন করতেন তাদের দেহ ও হাড় মেডিক্যাল স্কুলে বিক্রি করে দেওয়ার জন্যে।

৪. র‌্যাট ক্যাচার : কাজটি যেন হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালার। তবে একসময় ইঁদুর ধরার পেশাদার মানুষ পাওয়া যেত। এরা ইঁদুর ধরে তাদের অত্যাচার থেকে রেহাই দিতেন মানুষকে। সেই সঙ্গে রোগ-বালাই ছড়িয়ে পড়ার হাত থেকে বাঁচাতেন। রানি ভিক্টোরিয়ার সময় বিখ্যাত র‌্যাট ক্যাচার জ্যাক ব্ল্যাককে তো ‘র‌্যাট-ক্যাচার অ্যান্ড মোল ডেস্ট্রয়ার’ উপাধি দেওয়া হয়।

৫. হুইপিং বয় : রাজাদের বখে যেতে থাকা শিশু প্রিন্সদের শাসন করতে আনা হতো হুইপিং বয়দের। তারা প্রিন্সকে চাবুকপেটা বা লাঠিপেটা করতেন।

৬. অর্নাট্রিসেস : নাপিতের পেশা শেষ হয়ে যায়নি। কিন্তু প্রাচীন রোমের অর্নাট্রিসেসদের কাজ আরো জটিল ছিল। তারা পেঁচানো চুলের ডিজাইন করতেন। এটি সেই সময়কার দারুণ জনপ্রিয় স্টাইল ছিল। অর্নেট বানানোর মাধ্যমে মানুষের মধ্যে স্বর্গীয় ভাব চলে আসতো বলে মনে করা হতো।

৭. পাউডার মাঙ্কি : সাগরে যখন পাইরেটদের দাপট, তখন একটি জাহাজের কামানে যখন-তখন দ্রুত গোলা-বারুদ ভরার প্রয়োজন হতো। এ কাজে যে মানুষটি নিয়োজিত ছিলেন, তার পদবি পাউডার মাঙ্কি।

৮. বার্বার : আধুনিক বার্বার কেবল চুলই কাটেন। কিন্তু একসময়ের বার্বার শপে মানুষ চুল কাটা, দাঁতের চিকিৎসা, এমনকি হালকা সার্জারির জন্যও যেতেন।

৯. ফ্রেনোলজিস্ট : প্রাচীন আমলে মানুষ তার নিজের মনে কি রয়েছে তা জানতে এদের কাছেই যেতেন।

১০. নকনবলার : এরা চার্চ থেকে কুকুরগুলোকে তাড়িয়ে বাইরে নিতেন। তবে এ পেশা নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে। যেমন- চার্চে কুকুরগুলো কেন বড় সমস্যা ছিল? নকনবলার শব্দটিই বা কোথা থেকে এলো? এ পদে চাকরি পেতে কি ধরনের যোগ্যতার প্রয়োজন হতো? এমন নানা প্রশ্ন থেকেই যায়।

১১. উইচ হান্টার : যখন প্রেতাত্মাদের নিয়ে দারুণ ভয়ে সময় কাটতো মানুষের, তখন উইচ হান্টার পদে লোক নিয়োগ হতো। তবে এটা ঠিক ফুল-টাইম কাজ ছিল না। বরং পার্ট-টাইম জবের মতো ছিল। আবার অনেকে নিজের আগ্রগেই উইচ হান্টারের কাজ করতেন। তারা ‘উইচ ফাইন্ডার জেনারেল’ নামে পরিচিতি পেতেন।

১২.লিচ কালেক্টর : একসময় জোঁক সংগ্রাহকরা এগুলো সংগ্রহ করে চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের কাছে বিক্রি করতেন। ১৮ শ শতকের দিকে বিভিন্ন চিকিৎসায় জোঁকের বেশ ব্যবহার ঘটতো। তখন এদের কদর ছিল।

২২. চিমনি সুইপ : শীতের সময় ঘর গরম করতে আগুন জ্বালানো হতো। গোটা শীতেই তা চলতো। তখন বাড়ির চিমনিতে বেশ ময়লা জমতো। তখন সাধারণত দরিদ্র শিশুদের দিয়ে চিমনি পরিষ্কারের কাজ করানো হতো।

২৩. ডাগুয়েরোটাইপিস্ট : সেলফি যুগের বহু আগে ছিলেন ডাগুয়েরোটাইপিস্টদের সময়। তারা ফটোগ্রাফির কাজটিও করতেন। পলিশ করা রূপায় ঝকঝকে ছবি তুলতেন তারা।

২৪. নকার-আপ : অ্যালার্ম ঘড়ি আসার আগে অলসরা কিভাবে সকালে উঠে কাজে যেতেন? তারা একজন নকার-আপকে ভাড়া করতেন। তারা সকালে সময়মতো বাড়ির নিচে এসে জানালায় বিভিন্ন দানা ছুড়ে মারতেন।