24251348_10211237924049890_1541245421_oজমিয়াতুল মোদার্রেছীন একটি শৃঙ্খলাবোধবদ্ধ এবং দক্ষ ও শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর সংগঠন। এত বড় অরাজনৈতিক সংগঠন মাদরাসা শিক্ষকদের সাথে আছে, তাই আমাদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। জমিয়াতুল মোদার্রেছীন যে শুধু মাদরাসা শিক্ষকদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি বা শিক্ষকদের দাবি-দাওয়া নিয়ে কাজ করছে, তা নয়।বরং দেশে একটি সুন্দর ইসলামী সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়েও কাজ করে চলেছে। এরা ইসলামের লেবাসে ক্ষমতার মোহে অর্থের বিনিময়ে হঠকারী রাজনীতি করছে না। ইসলামের নাম ব্যবহার করে ক্ষমতায় যাবার জন্য কোন অপশক্তির ছত্রছায়াও লালিতপালিত হচ্ছেনা। আমাদের মাদরাসাগুলোকে কুরাজনীতি মুক্ত রাখতে হবে। অপরাজনীতি থেকে মাদরাসা ছাত্রদের দূরে থাকতে হবে।দিন দিন মাদরাসা শিক্ষকদের সম্মান বেড়েই চলেছে। জাতীয় সংসদেও মাননীয় মাদরাসা শিক্ষকদের সম্পর্কে অনেক ইতিবাচক কথা আলোচিত হয়েছে। মাদরাসা হলো এক প্রকারে ভাল মানুষ তৈরির প্রতিষ্ঠান। আর এই ভালো মানুষের সংগঠন জমিয়াত। বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীন আপনাদের সম্মান, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিকভাবে সাহায্য করে চলেছে। মাননীয় পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল আজ ৩০ নভেম্বর বৃহস্পতিবার কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার জমিয়াতুল মোদার্রেছীন সম্মেলনে প্রধান অতিথির বৃক্তৃতায় এসব কথা বলেন।

মাননীয় পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল আরো বলেন, জমিয়াতুল মোদার্রেছীন মাদ্রাসা শিক্ষকদের দাবি-দাওয়া চিহ্নিত করে সেগুলো আদায়ের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে অনেক দাবি-দাওয়া পূরণ হয়েছে। বাকিগুলোও পূরণ হবে ইনশা আল্লাহ। বর্তমান সরকার মাদরাসা শিক্ষার মানোন্নয়নে মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর, শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান, শিক্ষকদের বেতন জাতীয় বেতন স্কেলের অন্তর্ভুক্তিসহ নানামুখি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে যা ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা তিনি নিজেও মাদ্রাসা শিক্ষা ও শিক্ষক বিষয়ে অত্যন্ত সচেতন এবং শুভাকাঙ্খী।মাদরাসা শিক্ষা উন্নয়ন ও আধুনিকায়নে বর্তমান সরকারের ভূমিকা অনস্বীকার্য। এ দেশে একটি ইসলামী আরবী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি ছিল প্রায় শত বছরের। দেশের পীর-মাশায়েখ, ওলামায়ে কেরাম, মাদরাসা শিক্ষক ও কর্মচারীদের একক, অরাজনৈতিক ও শতাব্দির ঐতিহ্যধন্য সংগঠন জমিয়াতুল মোদার্রেছীন দীর্ঘ দিন ধরে এ দাবি জানিয়ে আসছিলেন। দেশের বিভিন্ন ইসলামী সংগঠন ও ইসলামী জনতা এ দাবির প্রতি স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন জানিয়ে এসেছেন। তাদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঐকান্তিক ইচ্ছায় এ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ঘোষণা প্রদান করেন এবং তা বাস্তবায়নের পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেন। তারই ধারাবাহিকতায় ইত:মধ্যে একনেক সভায় ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্প বাস্তবায়নে ৪১৩ কোটি টাকার প্রকল্প পাশ হযেছে। ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের জন্য ইতোমধ্যে ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জ উপজেলার ঘাটাচর ও মধ্যচরে ২০ একর জমি অধিগ্রহণের কাজ চলছে। প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে আধুনিক শিক্ষার সাথে সমন্বয় রেখে মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ হবে। মাদরাসা শিক্ষায় অধিক দক্ষ ও প্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন জনবল সৃষ্টি হবে। তারা দেশে এবং বিদেশে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবে, যা দেশের দারিদ্র্য বিমোচন কর্মসূচি, এসডিজি (সাস্টেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোল) ও ভিশন ২০২১ বাস্তবায়নে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

মাদরাসা শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে তিনি আরও বলেন, এদেশের ব্যালেন্সিং ফোর্স আলেম সমাজ। বাংলাদেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করার মূল মন্ত্র আপনাদের হাতে। দেশ দিনে দিনে উন্নত দেশের দিকে এগিয়ে চলছে।আপনাদেরকেও এ উন্নয়নের জোয়ারে স্বত:স্ফুর্তভাবে অংশগ্রহন করতে হবে। বাংলাদেশে ১৫ কোটি মুসলমান আছে। কেউ উগ্রতা প্রদর্শন করছেন না। মসজিদে আযান হচ্ছে, মন্দিরে ঢাক-ঢোল বাজিয়ে পূজা হচ্ছে, গীর্জায় উপাসনা হচ্ছে। সকলেই সহাবস্থানে আছেন। এটা এদেশের পীর-আউলিয়াদের দোয়ার বরকত। আপনারা ভাল ভানুষ, আলোকিত মানুষ আপনাদেরকে সাথে নিয়েই আমরা বাংলাদেশের উন্নয়নের চরম শিখরে পৌছে যাব ইনশা আল্লাহ।

কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার জমিয়াতুল মোদার্রেছীন সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন- অনুষ্ঠানের সভাপতি মাওলানা শাহ মুহাম্মদ নেছারউদ্দিন ওয়ালিউল্লাহী, বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীন এর সভাপতি আলহাজ এ এম এম বাহাউদ্দিন, বাংলাদেশ আওয়অমীলীগ বরুড়া উপজেলার আহবায়ক সাবেক সংসদ সদস্য,মোহাম্মদ নাসিমুল আলম চৌধুরী নজরুল এবং বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীন এর মহাসচিব অধ্যক্ষ আলহাজ মাওলানা শাব্বির আহমেদ।