nbr

ভবনে প্রবেশের দেয়ালে চোখ পড়লে চোখ আটকে যাবে। নয়নাভিরাম কারুকাজের মাঝে আপনি যদি আপনার ছবি দেখেন কেমন লাগবে? তাও আবার সর্বোচ্চ করদাতা হিসেবে? শুধু কি সর্বোচ্চ করদাতা, যদি হন কর বাহাদুর পরিবার, মহিলা করদাতা, তরুণ করদাতা কেমন হবে? এছাড়া যদি আপনার ছবি জাতীয় ও একুশ পদকপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের পাশে থাকে? হ্যাঁ, সকল করদাতাদের কর প্রদানে আগ্রহী ও উৎসাহ দিতে করদাতাদের ছবি সম্বলিত একটি নান্দনিক কর সম্মাননা গ্যালারি তৈরি করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর অঞ্চল-১০।

আয়কর সপ্তাহে এ কর সম্মাননা গ্যালারি সকলের জন্য উম্মোচন করা হয়েছে। করদাতাদের এমন সম্মান প্রদান করে গ্যালারি তৈরি করায় করসেবা নিতে আসা করদাতারা বেশ প্রশংসা করেছেন। কর অঞ্চল-১০ এনবিআরের একটি বিশেষ কর অঞ্চল। যেখানে চিকিৎসক, হাসপাতাল, ডাগায়নস্টিক সেন্টার ও কিছু সংখ্যক কোম্পানি করদাতা এ কর অঞ্চলের অন্তভূর্ক্ত। এ কর অঞ্চলের কমিশনার অপূর্ব কান্তি দাস এর ইনোভেশন আইডিয়া অনুযায়ী করদাতাদের কর প্রদান উৎসাহিত করতে এই কর সম্মাননা ফটোগ্যালারি করা হয়েছে।

এমন গ্যালারি সকল কর অঞ্চলে থাকা উচিত বলে মনে করেন এনবিআর সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে নতুন নির্মাণাধীন জাতীয় রাজস্ব ভবন হলে সেখানে গ্যালারি তৈরির কথা ভাবছেন তারা। সেগুনবাগিচায় কর অঞ্চল-১০ গিয়ে দেখা যায়, ভবনে প্রবেশের মুখে দেয়ালে এ গ্যালারি করা হয়েছে। শৈল্পিক কারুকাজ করা হয়েছে। আর চার পাশে লাগানো হয়েছে ঘাস। দেয়ালের ভেতরের অংশে প্রথম খাঁজে চোখ পড়বে এনবিআরের এবারের ইনোভেশন কর বাহাদুর পরিবার। এ কর অঞ্চলের অধীনে এবার নরসিংদী থেকে কর বাহাদুর সম্মাননা পায় মাঞ্জু মিয়া।

ওপরের অংশ জুড়ে রয়েছে জাতীয় ও একুশে পদকপ্রাপ্ত জাতীয় অধ্যাপকদের ছবি। যারা সর্বোচ্চ কর প্রদানে অনুকরণীয়। তাদের মধ্যে প্রথমে রয়েছে অধ্যাপক ডা. এ এইচ টি এ চৌধুরী।

মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা যুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য অধ্যাপক ডা. এ এইচ তৌহিদুল আনোয়ার চৌধুরী ২০১৭ সালে চিকিৎসায় বিশেষ অবদানের জন্য স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন। নিচের সারিতে রয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন অনুষদের ডিন, প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক এবং একুশে পদকপ্রাপ্ত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ। এরপরে রয়েছেন ডা. মাহমুদ হাসান। পরিপাকতন্ত্র ও লিভারের প্রখ্যাত এ চিকিৎসক বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ছিলেন। ২০১৭ সালে সমাজসেবায় তিনি একুশে পদক পেয়েছেন।

শেষে রয়েছেন অধ্যাপক ডা. অরুন রতন চৌধুরী। তিনি বারডেম হাসপাতালের দন্ত রোগ বিশেষজ্ঞ। সমাজসেবায় অবদানের জন্য ২০১৫ সালে একুশে পদকে ভূষিত হন। গ্যালারির নিচে ‘জনকল্যাণে রাজস্ব’ তরুণ করদাতাতের অনুকরণীয় দুইজন করদাতা স্থান পেয়েছেন। এরমধ্যে সঞ্জয় কুমার নামে একজন তরুণ করদাতা। রয়েছেন হোসনে আরা রহমান নামে একজন মহিলা করদাতা।

এনবিআর তরুণ প্রজন্মকে দেশসেবায় উদ্ধুদ্ধ করতে ২০১৬ সালে তরুণ ও মহিলা করদাতা সম্মাননা চালু করে। যার মধ্য দিয়ে তরুণ ও মহিলা করদাতারা কর প্রদানে উদ্ধুদ্ধ হচ্ছেন।

এছাড়া এ গ্যালারিতে রয়েছেন মো. মোবারক হোসেন ২০১৬-১৭ করবর্ষে দীর্ঘ সময় ও সুবোধ রঞ্জন দাস, জয় কৃষ্ণ সাহা ও মো. ইকবাল হোসেন খান নামে ২০১৬-১৭ করবর্ষে সর্বোচ্চ ৩ জন করদাতার ছবি।

গ্যালারির বাইরের অংশে স্থান পেয়েছেন ২০১৬-১৭ করবর্ষে ট্যাক্স কার্ড প্রাপ্ত ৫ জন প্রতিথযশা চিকিৎসক। প্রথমে রয়েছেন অধ্যাপক ডা. একেএম ফজলুল হক। তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কলোরেকটাল সার্জারি বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান।

রয়েছেন অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত। তিনি বাংলাদেশের একজন বিখ্যাত নাক, কান ও গলা বিশেষজ্ঞ এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি।

অধ্যাপক ডা. মো. জাহাঙ্গীর কবির। তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন ও কিডনী বিভাগের অধ্যাপক।

অধ্যাপক ডা. মো. আবদুল মবিন খাঁন। তিনি লিভার ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ। তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের হেপাটোলজী বিভাগের চেয়ারম্যান। শেষে রয়েছেন ডা. এন এ এম মোমেনুজ্জামান। হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ মোমেনুজ্জামান ইউনাইটেড হাসপাতালের চিকিৎসক।

গ্যালারির শেষ আকর্ষণ এ কর অঞ্চলের ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে সর্বোচ্চ কর প্রদানকারী হাসপাতাল। ছয়টি প্রতিষ্ঠান এখানে স্থান পাবে। যেসব প্রতিষ্ঠান প্রতি ৩ মাস অন্তর অন্তর সর্বোচ্চ কর প্রদান করবে তাদের ছবি স্থান পাবে। জুলাই-সেপ্টেম্বরে সর্বোচ্চ কর প্রদান করায় ইউনাইটেড, স্কয়ার, অ্যাপোলো হাসপাতাল, ইসলামী ব্যাংক ফাউন্ডেশন, ইবনে সিনা ট্রাস্ট ও পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার।

কর সম্মাননা গ্যালারির বিষয়ে কর অঞ্চল-১০ কমিশনার অপূর্ব কান্তি দাস বলেন, করদাতাদের উৎসাহ প্রদানে আমাদের এ ইনোভেশন। বিশেষ করে চিকিৎসকদের মধ্যে যারা একুশে পদক, স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত। তাদের সম্মান জানাতে এ গ্যালারি করা হয়েছে। তাদের সম্মানিত করতে পেরে আমরা নিজেদের সম্মানিত বোধ করছি।

তিনি বলেন, কর বাহাদুর পরিবার, তরুণ, মহিলা করদাতা ছাড়াও ট্যাক্স কার্ডপ্রাপ্ত করদাতা এবং সর্বোচ্চ করদাতা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কর প্রদানে সুস্থ প্রতিযোগিতা সৃষ্টি করতে ৬টি প্রতিষ্ঠান রাখা হয়েছে। প্রতি ৩ মাস অন্তর অন্তর কর প্রদান অনুযায়ী ছবি পরিবর্তন হবে। মেলা ও কর সপ্তাহে আগত করদাতারা এ গ্যালারির ফলে প্রতিযোগিতার মনোভাব তৈরি হয়েছেন। এ গ্যালারির মাধ্যমে করদাতাদের মধ্যে সচেতনতা আর প্রতিযোগিতা তৈরি করতে আমাদের এ প্রচেষ্টা।

এ বিষয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান বলেন, কর প্রশাসনকে করদাতাবান্ধব করার নির্দশন এ গ্যালারি। এ গ্যালারি করদাতাদের উৎসাহী করতে কর অঞ্চল-১০ এর বিশেষ উদ্ভাবনী। এ উদ্ভাবনকে এনবিআর থেকে সফল উদ্ভাবন হিসেবে দেখছি। সকল কর অঞ্চল এমন ব্যতিক্রমী উদ্ভাবনের চেষ্টা করছে। এসব উদ্ভাবনের মাধ্যমে এখন সকল কর অঞ্চল ও কর অফিস করদাতাবান্ধব সৃষ্টির চেষ্টা করে যাচ্ছেন। কর অফিস সম্পর্কে মনোভাব পরিবর্তনে এ গ্যালারি ভূমিকা পালন করবেন।