moha

আবাহনীকে পঞ্চম ট্রফি এনে দেয়ার অন্যতম নায়ক তিনি। ১৯ গোল করে গত আসরে হয়েছিলেন সর্বাধিক গোলদাতা। নাইজেরিয়ান সেই সানডে চিজোবাকে এবার প্রথম থেকে পায়নি আকাশি-হলুদ শিবির।

মধ্যবর্তী দলবদলে ফিরিয়ে আনা পরীক্ষিত সেই স্ট্রাইকারই হয়ে গেলেন মোহামেডানের বিরুদ্ধে তাদের জয়ের নায়ক। বুধবার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে সানডের জোড়া গোলেই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহামেডানকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়েছে আবাহনী। লিগের প্রথম পর্বেও মোহামেডানকে হারিয়েছিল ৫ বারের চ্যাম্পিয়নরা।

গ্যালারিতে দর্শক ছিল না। কিন্তু মাঠে মোহামেডান-আবাহনী ম্যাচের সব রসদই ছিল। আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে শুরু থেকেই জমে উঠেছিল দেশের দুই জনপ্রিয় দলের ম্যাচটি। কিন্তু দুটি পেনাল্টিই ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয় ম্যাচের।

আবাহনী পেনাল্টি কাজে লাগিয়ে এগিয়ে গেলেও মোহামেডান ব্যর্থ হয়েছে পেনাল্টি থেকে গোল করে ম্যাচে ফিরতে। তার খেসারত হিসেবে চির প্রতিদ্বন্দ্বীদের কাছে আরেকটি হার নিয়ে ঘরে ফেরে সাদা-কালোরা।

বিরতির বাঁশির ঠিক আগ মুহূর্তে পেনাল্টি থেকে গোল করে আবাহনীকে এগিয়ে দেন সানডে চিজোবা। রুবেল রানার কাছ থেকে বল পেয়ে বক্সে ঢুকলেই সানডেকে ফেলে দেন মোহামেডানের ডিফেন্ডার আসাদুজ্জামান বাবলু।

সানডে সুযোগ নষ্ট না করলেও করেছেন তারই স্বদেশি মোহামেডানের এনকোচা কিংসলে। ৫৮ মিনিটে ম্যাচে ফেরার সুযোগ করে দিয়েছিলেন আবাহনীর ডিফেন্ডার নাসির উদ্দিন বক্সে বলে হাত দিয়ে। কিন্তু কিংসলে পেনাল্টি শট মারেন বাইরে।

আবাহনী ৭১ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে সানডের অসাধারণ এক হেডে। নিজেদের সীমানা থেকে উড়ে আসা বল ধরে বাম দিক দিয়ে ঢুকেই গোলমুখে ক্রস নেন নাবীব নেওয়াজ জীবন। সানডে ছিলেন জায়গামতো। তাকে কড়া পাহাড়ায় রেখেছিলেন মোহামেডানের তরুণ ডিফেন্ডার বাবলু।

কিন্তু সানডেকে রোখার সাধ্য কী তার? গা ঘেঁষা বাবলুকে ছিটকে দিয়ে বল-মাথায় সংযোগ ঘটান ঢাকার ফুটবলের গোলমেশিন সানডে। দ্বিতীয়বার মোহমেডানের জালে বল পাঠিয়ে ম্যাচটিকে নিজেদের করে নেয় আবাহনী।

এক লিগের দুই সাক্ষাতেই মোহামেডানকে হারালো আবাহনী। ম্যাচের পর সমর্থকরা আবাহনী আবাহনী বলে স্লোগানও দিলো কিছু সময়। পয়েন্ট টেবিলে এখনো আবাহনী বেশ পিছিয়ে শীর্ষে থাকা চট্টগ্রাম আবাহনীর চেয়ে।

তবে আকাশি-হলুদ সমর্থকদের উল্লাসটা মোহামেডানকে পর পর দুই ম্যাচে হারানোয়। এ জয়ে আবাহনীর সংগ্রহ ১৪ ম্যাচে ৩০ পয়েন্ট। শেখ জামালের সমান পয়েন্ট হলেও গোলগড়ে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা তিনে। শীর্ষ থাকা চট্টগ্রাম আবাহনীর পয়েন্ট ৩৫।