qq

গাজীপুরে ডাস্টবিনে বিড়ালের মুখ থেকে উদ্ধার করে নবজাতককে হাসপাতালে পাঠিয়েছে এলাকাবাসী। রোববার (১৯ নভেম্বর) দুপুরে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের লক্ষীপুরা এলাকার রাস্তার পাশের এক ডাস্টবিন থেকে শিশুকণ্যাটি উদ্ধার করে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক প্রণয় ভ’ষন দাস জানান, দুপুর সোয়া দুইটার দিকে স্থানীয় তিনসড়ক এলাকার স্প্যারো কারখানার পোশাক শ্রমিক রেখা আক্তার ও রিকশা চালক মো. এরশাদ কয়েক ঘন্টা বয়সী শিশুটি হাসপাতালে দিয়ে যান। তার গায়ে বিড়ালের দাঁত ও নখের আচর ও ক্ষত চিহ্ন রয়েছে। হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে তাকে ভর্তি করে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। শিশুটি শঙ্কামুক্ত রয়েছে। তবে তাকে দুধ পানের ব্যবস্থা করা জরুরী। বিষয়টি জয়দেবপুর থানা পুলিশ ও জেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।

উদ্ধারকারীরা চিকিৎকদের জানিয়েছেন, দুপুরের খাবারের জন্য রিকশা নিয়ে রেখা কারখানা থেকে লক্ষীপুরার ভাড়া বাসায় ফিরছিলেন। পথে একটি ডাস্টবিনে প্লাস্টিকের বাজারের ব্যাগে থাকা শিশুটিকে একটি বেড়াল টানা হেঁচড়া করছে। এসময় শিশুটির কান্নার শব্দ শুনতে পান তারা। পরে বিড়ালের মুখ থেকে উদ্ধার করে শিশুটিকে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দিয়ে যান।

জয়দেবপুর থানার ওসি মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, এ ব্যাপারে জয়দেবপুর থানায় একটি জিডি করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

ডা. প্রণয় আরো জানান, শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার জন্য রেফার্ড করা হয়। কিন্তু শিশু আনায়নকারী রেখা শিশুটিকে ঢাকায় না নিয়ে নিজের বাসায় নিয়ে গেছেন বলে জানতে পেরেছি।

রেখা বলেন, আমার স্বামী ২০০৮সালে মারা গেছেন। আমার ঘরে রেজাউল করিম নামের (১৭) প্রতিবন্ধী ছেলে রয়েছে। কণ্যা শিশুটি পেয়ে তার প্রতি আমার খুব মায়া সৃষ্টি হয়েছে। তাই তাকে হাসপাতাল থেকে ঢাকায় না নিয়ে বাসা নিয়ে গেছি। তাকে গরম ছ্যাক দিয়ে গুড়া দুধ গুলিয়ে পান করানোর পর এখন ভাল আছে। আমার ও ছেলের প্রথম অক্ষরের সঙ্গে মিল রেখে তার নাম রাখা হয়েছে রাবেয়া। তিনি সন্তান নিয়ে বর্তমানে লক্ষীপুরা পশ্চিমপাড়া (পুকুরের পাড়) এলাকায় জামে মসজিদের পাশে কাজিম উদ্দিনের বাড়ি ভাড়া থাকেন।