online

 

দেশের অনলাইন সংবাদমাধ্যমগুলোকে নিবন্ধনের আওতায় আনতে কয়েক ধাপে ১৮০০ অনলাইন পত্রিকার কাগজপত্র জমা নেয়ার পর আবারো শতাধিক অনলাইন পত্রিকার কাগজপত্র জমা পড়েছে তথ্য অধিদফতরে। বর্তমানে নতুন করে কেউ কাগজপত্র জমা দিতে চাইলে তাও জমা নেবে তথ্য অধিদপ্তর।

তথ্য অধিদপ্তরের সহকারি তথ্য অফিসার এ কে এম ফেসদৌস বলেন, বর্তমানে আরও শতাধিক অনলাইন পত্রিকার নিবন্ধনের কাগজপত্র জমা পড়েছে। এ নিয়ে প্রায় ২ হাজারের কাছাকাছি অনলাইন পত্রিকা নিবন্ধনের জন্য তাদের কাগজপত্র জমা দিয়েছে।

অনলাইন গণমাধ্যম নিবন্ধনের জন্য ২০১৫ সালের শেষের দিকে সংবাদমাধ্যমগুলো থেকে নির্ধারিত নিবন্ধন ফরম ও একটি প্রত্যয়নপত্র বা হলফনামা পূরণ করে তা তথ্য অধিদপ্তরে জমা দেয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপর কয়েকধাপে সময় বাড়ানোর পর মোট জমা পড়ে ১ হাজার ৮০০ গণমাধ্যমের কাগজপত্র। বর্তমানে আরও শতাধিক গণমাধ্যমের কাগজপত্র জমা পড়লো তথ্য অধিদপ্তরে।

এদিকে, যেসব অনলাইন গণমাধ্যম তাদের কাগজপত্র জমা দিয়েছে তাদের দেয়া তথ্য গোয়েন্দা সংস্থা দিয়ে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

তথ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব নাসরিন পারভীন বলেন, নিবন্ধনের কাগজপত্র জমা নেয় তথ্য অধিদপ্তর। এরপর তারা দেখে তা আমাদের কাছে (তথ্য মন্ত্রণালয়) দেয়। আমরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠাই। এরপর বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা দিয়ে তা যাচাই-বাছাই করা হয়।

তিনি বলেন, অনলাইন গণমাধ্যম নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন। আমরা যেসব গণমাধ্যমের কাগজপত্র স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে দিয়েছে তার রিপোর্ট এখনও পাইনি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, তারা গোয়েন্দা সংস্থাগুলো থেকে এখনও রিপোর্ট পায়নি।

এদিকে, গত ১৯ জুন অনলাইন সংবাদ মাধ্যমকে সম্প্রচার কমিশনের অধীনে এনে নীতিমালা অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এদিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘জাতীয় অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালা- ২০১৭’ এর খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়।

বৈঠকের পর মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের বলেন, গণমাধ্যম নীতিমালার আলোকেই অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালা করা হয়েছে। অনলাইন গণমাধ্যম যেন সুনিয়ন্ত্রিতভাবে কাজ করে, নীতিমালায় সেই গাইডলাইন দেওয়া হচ্ছে, উদ্দেশ্যও বলা আছে। অনলাইন সংবাদ মাধ্যম পরিচালনার জন্য সম্প্রচার কমিশনের কাছ থেকে নিবন্ধন নিতে হবে। এই কমিশন গঠিত হবে জাতীয় সম্প্রচার আইনের অধীনে, যা প্রণয়নের কাজ চলছে।

জাতীয় সম্প্রচার কমিশন অনলাইন সংবাদ মাধ্যমের জন্য ‘গাইডলাইন’ তৈরি করবে বলেও জানান তিনি। বিজ্ঞাপনের হার ও ফি সে অনুযায়ী নির্ধারিত হবে। আর কমিশন গঠন না হওয়া পর্যন্ত তথ্য মন্ত্রণালয় অনলাইন সংবাদ মাধ্যমের দেখভাল করবে বলে জানান শফিউল।

তিনি বলেন, সম্প্রচার আইন পাস হলে কমিশন চলে আসবে। এই কমিশনের কাছ থেকে নিবন্ধন নিতে হবে।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত প্রধান তথ্য অফিসার ফজলে রাব্বী  বলেন, অনলাইন গণমাধ্যম নিবন্ধন এখনও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আমাদের হাতে নতুন করে কোনো গণমাধ্যমের কাগজপত্র আসলে আমরা দেখে তা তথ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে জমা দেই। নতুন করে কেউ কাজপত্র জমা দিতে চাইলে আমরা তা নেব।