cric

ওয়ানডে কিংবা টি-টুয়েন্টির মত টেষ্ট নয়। এদের মাধ্যে বিস্তর ফারাক। টেস্টে খেলেতে হয় বুঝে-শুনে, একই সঙ্গে দিতে হয় ধৈর্য্যের পরীক্ষা। টেস্টে যার ধৈর্যশক্তি সবচেয়ে বেশি সে ততবেশি সফল।

২০০০ সালে টেষ্ট স্ট্যাটাস পায় বাংলাদেশ, কিন্তু এখন পর্যন্ত এই ফরমেটে কতটা সফল টাইগাররা। ৮-১০টা জয়, গুটি কয়েক ম্যাচ ড্র। এইতো, এছাড়া সবই হতাশার গল্প। তবে এতটূকু সাফল্যই কি যথেষ্ট? নাকি আরো সফল হতে পারতো বাংলাদেশ। অন্যভাবে বললে আরো সফল হওয়া উচিত ছিল না টিম বাংলাদেশের?

সত্যি কথা বলতে অনেক সুযোগ ছিল টাইগারদের, কিন্তু সে সুযোগগুলো টাইগাররা কাজে লাগাতে পারেনি নিজেদের কারনেই। টেষ্টের জন্য উপযুক্ত স্কোয়াড সিলেকশন না করা অথবা এই ফরম্যাটের জন্য যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণেই বাংলাদেশ আজ এতটা পিছিয়ে। তবে আদৌ বিসিবি বা ক্রিকেট পরিচালনায় সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তিদের কেউ কি পেরেছে টেস্ট ব্যর্থতার সমস্যা সমাধান করতে?

আজকের বাংলাদেশ ক্রিকেট যতটুকু এগিয়ে, তা কিন্তু ওয়ানডে, টি-টুয়েন্টির সাফল্যের সুবাদে, তবে এটা সত্য টাইগাররা এখন প্রতিদ্বন্দ্বী, কাউকেই ছেড়ে কথা বলে না। কিন্তু প্রতিবারই কেন জানি একটা সীমাবদ্ধতা থেকে যায় টেষ্ট ফরম্যাটের মত একটি বড় জায়গায়। ছোট ভার্সনে আমরা যত এগিয়ে, বড় ভার্সনে আমরা তত পিছিয়ে।

টেষ্ট ক্রিকেট সাধারনত স্কিল, ধৈর্য্য, চর্চা, অভিজ্ঞতা মননশীল খেলা, এ সব বৈশিষ্টগুলো সকল ক্রিকেটারের মধ্যে পরিলক্ষিত নয়, একক জনের খেলার ধরন একক রকম, সবাই সব ফরম্যাটের জন্য উপযুক্ত না, যে যেখানে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে তাকে সেখানেই খেলানো উচিত, তবে ছোট ফরম্যাটে দীর্ঘ দিনের পরিপক্কতা থাকলে টেষ্ট ফরম্যাটে তাকে আনা যায়, যদি সে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারে!

তাই টেষ্ট ক্রিকেটের প্রক্ষাপট বিবেচনায়, এই ফরম্যাটে স্কোয়াড নির্বাচন নিয়ে আমাদের দীর্ঘস্থায়ী পরিকল্পনা হাতে নেয়া উচিত। অন্যথায় আমাদের অবস্থার তেমন উন্নতি আশা করা যাবে না। ব্যাটিংয়ে যেমন ভুগতে হবে তেমনি বোলিংয়ে ও ব্যর্থ হতে হবে আমাদের।

টেষ্ট সহায়ক অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ব্যাটসম্যান নির্বাচন, তাদের সঠিক পরিচর্যা, টেকনিক নিয়ে কাজ করা এখন সময়ের দাবি। একই সঙ্গে বোলিংয়ে স্পিন উইকেটে সাফল্য পেলেও পেস বান্ধব উইকেটে বরাবরই আমাদের বোলাররা ফ্লপ, যা আমরা গত নিউজিল্যান্ড সফর এবং সর্বশেষ দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচেই টের পেয়েছি।

তাসকিন, রুবেল, মোস্তাফিজ, আল আমিনদের ভালোভাবে গড়ে তুলতে হবে, তাদের সামর্থ্যের সবটুকু আদায় করে নিতে হবে, শহীদ, শাহাদাত, রবিউল, রনি, আবু জায়েদ রাহী, এবাদতের মত বোলারদের সুযোগ করে দিতে হবে, দলে প্রত্যেকটি বোলারের ব্যাক-আপ রাখতে হবে, তবেই দল গঠনে হিমশিম খেতে হবে না, তাই সময় উপযোগী দল গঠনে আমাদের ভাবা উচিত, কন্ডিশন বুঝে সকল পজিশনে যোগ্যদেরই খেলাতে হবে, বিদেশের মাটিতে কিভাবে আমরা সাফল্য পাব তার জন্য একটি সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপ নিয়ে কাজ করা এখন আবশ্যক হয়ে দাঁড়িয়েছে।