tofayel

দেশের চাল সংকট মোকাবিলা করতে চাল ব্যবসায়ীদের যেকোনো উপায়ে চাল আমদানির নির্দেশ দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। মঙ্গলবার সচিবালয়ের খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত চাল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি ব্যবসায়ীদের এ নির্দেশ দেন।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, শুরুতেই চাল ব্যবসায়ীরা চাল আমদানিতে চটের বস্তা ব্যবহারে সরকারি বাধ্যবাধকতার বিষয়টি তুলে ধরেন। তারা বলেন, চটের বস্তায় চাল আমদানি করলে প্রতি কেজিতে এক টাকা খরচ রাড়ে। আর প্লাস্টিকের বস্তায় খরচ হয় মাত্র ১৫/১৬ পয়সা। যদি চটের বস্তা ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা স্থগিত করা হয় তবে আমদানিতে প্রতি কেজি চালের দাম দুই টাকা কমবে।

ব্যবসায়ীদের এ অভিযোগ শুনে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘এ মুহূর্তে চটের বস্তায় চাল আমদানির সরকারি বাধ্যবাধকতার সিদ্ধান্ত আগামী তিন মাসের জন্য স্থগিত করা হলো। এখন যে যেভাবে পারেন চাল আনেন। আমি এনবিআর ও কাস্টমসকে বলে দিচ্ছি। কেউ বাধা দেবে না। এছাড়া ভারত থেকে জিটুজি পদ্ধতিতে চাল আমদানি করতে আমি নিজে কথা বলবো।’
এ সময় ব্যবসায়ীরা বাণিজ্যমন্ত্রীকে বলেন, ‘সংকট কাটাতে চাল আমদানির শুল্ক দেরিতে কমানো হয়েছে। এছাড়া চাল ও ধান সংগ্রহে সরকার যে দাম নির্ধারণ করেছে তা অনেক কম। তখন যদি চালের দাম ৩৪ টাকা নির্ধারণ না করে ৪০ টাকা করা হতো তবে আমরা অনেক চাল দিতে পারতাম।’

বৈঠকে সরকার পক্ষে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, সাবেক খাদ্যমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক ও খাদ্য সচিব মোহাম্মদ কায়কোবাদ উপস্থিত আছেন। এছাড়া ব্যবসায়ী পক্ষে উপস্থিত আছেন বাংলাদেশ অটো মেজর অ্যান্ড হাস্কিং মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের এক পক্ষের সভাপতি আব্দুর রশিদ, সাধারণ সম্পাদক লায়েক আলী, অপর গ্রুপের খোরশেদ আলম খান, মেঘনা গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল, সিটি গ্রুপের চেয়ারম্যান ফজলুর রহমানসহ বিভিন্ন চাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের নেতারা।

গত রবিবার সচিবালয়ে বাংলাদেশ অটো রাইস মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ জানিয়েছিলেন, বৈঠকে চাল ব্যবসায়ীদের কাছে সংকটের মূল কারণ জানতে চাওয়া হবে। যদি চাল সংকটের জন্য কারও সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যায় তবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’