dam

ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের প্রায় ছয় দশক পর গুজরাটে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাঁধ সর্দার সারোবর ড্যামের উদ্বোধন করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদী।
রোববার নিজের ৬৭তম জন্মদিনে মোদী বাঁধটি উদ্বোধন করেন বলে এনডিটিভি জানিয়েছে।বাঁধের নির্মাণকাজ শেষ উপলক্ষে গুজরাটের রাজ্য সরকার পক্ষকালব্যাপী যে নর্মদা মহোৎসবের আয়োজন করেছে মোদি সেখানেও উপস্থিত থাকবেন বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। গুজরাটের আহমেদাবাদ শহর থেকে ঘণ্টাখানেকের পথ দাভোইয়ে এক জনসভায়ও তার বক্তৃতা করার কথা রয়েছে। রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের কয়েক মাস বাকি থাকতে বাঁধের কাজ শেষ হওয়ায় বিজেপি গুজরাট রাজ্য শাখা বিশাল অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করেছে; অনুষ্ঠানস্থল আহমেদাবাদ থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে বলে জানিয়েছে এনডিটিভি। বাঁধের উচ্চতা ১২১ দশমিক ৯২ মিটার থেকে বাড়িয়ে ১৩৮ মিটার করার পর জুনের ১৬ তারিখ নর্মদা কন্ট্রোল অথরিটি সর্দার সারোবর প্রজেক্টের ফটক বন্ধ করে দেয়। উচ্চতা বাড়ায় বাঁধের ধারণক্ষমতাও ১২ লাখ ৭০ হাজার কিউবিক মিটার থেকে বেড়ে হয়েছে ৪৭ লাখ ৩০ হাজার কিউবিক মিটার। ১৯৬১ সালে ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু বাঁধটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন; দুই যুগ পর ১৯৮৭ সালে এর নির্মাণকাজ শুরু হয়। বাঁধের উপকার সম্বন্ধে বলতে গিয়ে সর্দার সারোবর নিগাম লিমিটেডের (এসএসএনএল) কর্মকর্তারা জানান, প্রকল্পটির ফলে নর্মদা নদীর পানি গুজরাটের নয় হাজারেরও বেশি গ্রামে খালের সাহায্যে সরবরাহ করা যাবে, সেচ সুবিধা পাবে ১৮ লাখ হেক্টরের বেশি জমি। প্রকল্পের আওতায় মূল এবং উপ-খালগুলোর কাজ শেষ হলেও ছোট ছোট কিছু খালের ৩০ শতাংশের মত কাজ এখনো শেষ হয়নি বলেও জানান তারা। এনডিটিভি বলছে, কংক্রিট ব্যবহারের দিক দিয়ে সর্দার সারোবর বাঁধটিই বিশ্বের বৃহত্তম; দৈর্ঘ্য বিবেচনায় এর আগে আছে কেবল যুক্তরাষ্ট্রের গ্র্যান্ড কোলি ড্যাম। এক দশমিক দুই কিলোমিটার দীর্ঘ ও ১৬৩ মিটার গভীর সর্দার সারোভার বাঁধ এখন পর্যন্ত দিনে দুটি পাওয়ার হাউজ থেকে ৪ হাজার ১৪১ কোটি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম। রিভার বেড পাওয়ার হাউজ ও ক্যানেল হেড পাওয়ার হাউজ দুটির ক্ষমতা যথাক্রমে ১২০০ ও ২৫০ মেগাওয়াট।
সরকারের এক মুখপাত্র জানান, বাঁধ নির্মাণে যে খরচ হয়েছে তার দ্বিগুণ অর্থ্যাৎ ১৬ হাজার কোটি রুপির বেশি এখান থেকে আয় করা সম্ভব হবে।
বাঁধের প্রত্যেক ফটকের ভার ৪৫০ টনেরও বেশি, এগুলো বন্ধ করতে অন্তত এক ঘণ্টা সময় লাগবে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
এসএসএনএলের কর্মকর্তারা বলছেন, বাঁধ থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ তিন রাজ্যে বন্টন করা হবে। এর মধ্যে মহারাষ্ট্র পাবে ৫৭ শতাংশ, মধ্য প্রদেশে যাবে ২৭ শতাংশ, বাকিটা পাবে গুজরাট।
৫৬ বছর আগে বাঁধের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পর থেকেই প্রকল্পটি নিয়ে আপত্তির কথাও জানিয়েছেন অনেকে।
মেধা পাটেকরের নেতৃত্বে ‘নর্মদা বাঁচাও আন্দোলন’ পরিবেশগত বিভিন্ন উদ্বেগের জায়গা থেকে প্রকল্পটি বন্ধের জন্য আন্দোলনও করেছে।
তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে ১৯৯৬ সালে সুপ্রিম কোর্ট বাঁধটির নির্মাণ কাজ স্থগিত করার আদেশ দেয়।
চার বছর পর সর্বোচ্চ আদালত বাঁধের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণ দেওয়ার শর্তে সেই স্থগিতাদেশ তুলে নিলে বাঁধের কাজ ফের শুরু হয়।