hasina

প্রত্যন্ত এলাকায় কয়েকজন তরুণ এলেন। এলাকার গণ্যমাণ্য ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বললেন। কথা বললেন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে, জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে। তরুণরা ল্যাপটপে সব কিছু টুকে নিচ্ছেন। জানতে চাইছেন, এলাকায় গৃহহীন কেউ আছেন নাকি, তাঁদের সঙ্গে কথা বলছেন, অনুমতি নিয়ে তাঁদের ছবিও তুলছেন। এলাকার সমস্যাগুলো লিপিবদ্ধ করছেন, উন্নতি গুলোরও তালিকা করছেন। এই তরুণরা কেউ বাইরে থেকে লেখা পড়া করে এসেছে, কেউ এদেশেরই বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া সদ্য শেষ করেছে, মেধাবী। তিন থেকে চারজন করে এরা প্রতিটি ইউনিয়নে যাচ্ছে, গৃহহীন মানুষের তালিকা করছে, এলাকার প্রধান প্রধান সমস্যাগুলো নিশ্চিত করছে। তবে তাঁদের কোনো তর্জন গর্জন নেই, জাহির করার প্রবণতাও নেই। কেউ জিজ্ঞেস করলে বিনয়ের সঙ্গে জানাচ্ছে আমরা একটা গবেষণার জন্য তথ্য নিচ্ছি। এরা আসলে কারা? এরা হলো ‘টিম শেখ হাসিনা’ সংক্ষেপে ‘টিম হাসিনা’।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে সারাদেশে গৃহহীন মানুষের তালিকা প্রণয়ন এবং প্রত্যেকটি এলাকার সমস্যা সরেজমিনে জানতেই এই টিম গঠন করা হয়েছে। পাঁচ শতাধিক স্বেচ্ছাসেবক ঈদের পর থেকে ছড়িয়ে পড়েছে সারা দেশে। সিআরই এই স্বেচ্ছাসেবকদের বাছাই করেছে, এক একমাসের প্রশিক্ষণ দিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা দিয়েছেন, ‘২০২০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে সব মানুষের জন্য ঘর হবে।’ এজন্য তিনি গৃহহীন মানুষের তালিকা তৈরির নির্দেশ দিয়েছিলেন। এই নির্দেশ বাস্তবায়নের জন্যই এই উদ্যোগ। একই সঙ্গে, এই টিম সারা দেশের সবগুলো নির্বাচনী এলাকায় হতদারিদ্র মানুষের তালিকা, এলাকার প্রধান প্রধান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করবে। এই তালিকার ভিত্তিতে উন্নয়নের পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ‘টিম হাসিনা’র তথ্য উপাত্তগুলো দিয়ে একটা ডাটাবেস তৈরি হবে। সেই ডাটাবেস থেকে এক নজরেই সারাদেশের চিত্র পাওয়া যাবে। কোথায় কী উন্নতি হয়েছে, কোথায় কী সমস্যা হয়েছে। সজীব ওয়াজেদ জয় এর পরিকল্পনা এবং রিদওয়ান মুজিব সিদ্দীকি ববির সার্বিক তত্ত্বাবধানে এই ‘কান্ট্রি ম্যাপিং’ এর কাজ চলছে। এটা একটি ভার্চুয়াল আর্কাইভ হবে। যেখানে নিমিষেই কোনো এলাকায় কতজন গৃহহীন’, কোথায় রাস্তা নেই, কোথায় ব্রিজ নেই, কোথায় বাঁধ দরকার ইত্যাদি যাবতীয় তথ্য পাওয়া যাবে। ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে সারা দেশ থেকে তথ্য সংগ্রহ শেষ হবে বলে জানা গেছে। আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যে টিম হাসিনা, সারা দেশের সব তথ্য মুঠোয় এনে আওয়ামী লীগ সভাপতির কাছে উপস্থাপন করবেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এর ফলে পরিকল্পিত উন্নয়ন নকশা যেমন প্রণয়ন সম্ভব হবে, তেমনি জনগণের চাহিদাভিত্তিক উন্নয়নও করা যাবে।