rice

পবিত্র ঈদুল আজহার পর রাজধানীতে চালের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। কেজি প্রতি বেড়েছে ৭ থেকে ৮ টাকা। ৫০ কেজির বস্তা প্রতি চালের দাম বেড়েছে ৭০০ টাকা। চালের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় দিশেহারা সাধারণ মানুষ।

কাওরান বাজারে চাল কিনতে আসা আবুল হোসেন বলেন, গত মাসে (আগস্ট) আমি ৫০ কেজি চালের বস্তা কিনেছি ২৭০০ টাকা দিয়ে। এখন সেই চালের দাম ৩২০০ টাকা। বস্তা কিনতে পারবো না তাই কেজি করে কিনে নিতে হচ্ছে।

কাওরান বাজার সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ক্রেতাশুন্য চালের আড়ৎ। বিক্রেতারা বলছে, কেনাবেচা নেই। কোন কোন বিক্রেতা বলছে, ঈদের পর তাই ক্রেতা কম।

চালের আড়ৎদার নাজির আহমেদ জানান, মিনিকেট কেজি প্রতি দাম বেড়েছে ৭ থেকে ৮ টাকা। দেশে বন্যা হওয়ার কারণে চালের দাম অনেক বেড়েছে।

তিনি আরও বলেন, ভারতের চাল দেশে আছে কিন্তু ওই চাল গরু খায়। দেশি চালের দাম বেশি। তাছাড়া দেশে চালের উৎপাদন এখন অনেক কমে গেছে। সরকার বিদেশ থেকে চাল এনেছে, তাহলে চালের দাম কেন বাড়বে প্রশ্নের জবাবে আড়ৎদার বলেন, সরকার যে চাল আনে, ওই চাল শুধু সরকারী লোকজনদের জন্য। রেশন দিয়ে থাকে ওই চাল দিয়ে। ওই চাল যদি আমরা পেতাম তাহলে চালের দাম অনেক কম থাকতো।

কাওরান বাজারে যে চালের কেজি ৫৮ থেকে ৬০ টাকা। ওই চাল খুচরা ব্যবসায়ীরা বিক্রি করছে ৬৫ থেকে ৭০ টাকা। দেশে চালের দাম হুট করে বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে সাধারণ মানুষ।

চালের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় কারণ সিহেবে চালকল মালিকরা বলছেন, হাওর অঞ্চলে ফসলহানি, বিভিন্ন জায়গায় ধান চিটা যাওয়ায় চাল উৎপাদন কম হয়েছে। তাছাড়া ধানের উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে বলেও দাবি তাদের।

তবে দেশের অন্যতম কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. আসাদুজ্জামান এসব যুক্তি পুরোপুরি গ্রহণ করছেন না। তিনি বলেন, “এটা সত্যি হাওর এলাকাসহ কিছু জায়গায় দুর্যোগ হয়েছে। ফসলের ক্ষতি হয়েছে, কিন্তু এমন কিছু হয়নি যাতে হুহু করে দাম বাড়বে। চালকল মালিকরা আংশিক সত্য বলছে, কিন্তু আরো যোগসাজশ থাকতে পারে।”

তিনি আরও বলেন, “সিন্ডিকেটের কথা শোনা যায়। সেটি প্রমাণিতও হয়নি, অপ্রমাণিতও হয়নি .. চালের এত অভাব হয়নি আর এমন কিছু দুর্যোগ হয়নি। হাওর এলাকার ধান উৎপাদন তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়।”

এদিকে বাজারে যখন চালের দাম উর্ধ্বমুখী তখন সরকারের গুদামে চালের মজুদ কমছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এমন খবরাখবর দেখা যাচ্ছে। বোরো মৌসুমে সরকার আট লাখ টন চাল সংগ্রহ করার লক্ষ্যমাত্রা স্থির করলেও তার ধারে কাছেও যেতে পারেনি এখনো। কারণ চাল কলের মালিকরা সরকারের কাছে চাল বিক্রি করতে আগ্রহী নয়।