image-48496

রাস্তায় উপড়ে পড়ে রয়েছে সারি সারি নারকেল গাছ। বাড়ির চাল, ইট-কাঠ-পাথর ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। কোথাও আবার সমুদ্রের ভিতরে ঢুকে গিয়েছে আস্ত একটা বাড়ি। তাণ্ডব শেষ, ফ্লোরিডা এখন শান্ত। যদিও চারপাশে শুধুই হাহাকার। ঘূর্ণিঝড় ইরমার ভয়ে যারা ঘর ছেড়েছিলেন, ফিরে এসেছেন তাদের অনেকেই।

নর্থ ক্যারোলিনার জ্যাকসনভিল, সাউথ ক্যারোলিনার চার্লসটন থেকে জর্জিয়া উপকূল এখনও পানির নিচে। তবে প্রশাসনের কাছে এটাই স্বস্তির, ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জে যে পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার তুলনায় ফ্লোরিডার ক্ষতি কিছুই না। সেখানে ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে। শুধু কিউবাতেই মারা গিয়েছেন ১০ জন।

ইরমার ভয়াল তাণ্ডবে ধূলিসাৎ হয়ে গিয়েছে আটলান্টিক ও মেক্সিকো উপসাগরে ঘেরা ছবির মতো সুন্দর ফ্লোরিডা। সমুদ্রের মধ্যে ছোট ছোট এই দ্বীপগুলোতে বছরভর পর্যটকদের আনাগোনা থাকত। সমুদ্রের উপরে বিশেষ ভাবে তৈরি কিজ-এর রিসর্টগুলো এখন প্রায় সমুদ্রগর্ভে। একটি বেসরকারি সংগঠনের দাবি, ফ্লোরিডায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দুই থেকে চার হাজার কোটি ডলার। এ অবস্থায় কিজ-এর বাসিন্দাদের এখনও ঘরে ফেরার অনুমতি দেয়নি প্রশাসন।

মায়ামি নিয়ে যতটা ভয়ে ছিল প্রশাসন, ততটা ঝঞ্ঝা পোহাতে হয়নি সৈকত-শহরটিকে। কিন্তু এখন বন্যা-বিধ্বস্ত দশা।

উত্তরপূর্ব ফ্লোরিডার জ্যাকসনভিলে বন্যার ছবি ভয়াবহ। বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে সেন্ট জন্স নদী। ১৮৪৬ সালের পরে নদীর এমন রূপ দেখেনি কেউ বলে জানালেন পুলিশ।  জ্যাকসনভিলের সরকারি ওয়েবসাইটে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে বাসিন্দাদের। বলা হচ্ছে, ‘বাড়িতে থাকুন, বেরোবেন না। নিচু এলাকায় থাকলে উপরের দিকে যান। পানির নিচে গোটা শহর। বন্যার পানিতে সাপ, অ্যালিগেটর চলে আসতে পারে, সাবধান!’