image-48493

যৌথ প্রযোজনায় ছবি নির্মাণ নিয়ে আন্দোলন ও নাটক কম হয়নি। জলও কম ঘোলা হয়নি। মাঝখানে বিভিন্ন পক্ষের কথা চালাচালি, একে অন্যকে নিষিদ্ধ করা, মনোমালিণ্য এবং কাদা ছোড়াছুড়ি তো আছেই। শেষমেষ প্রকাশিত হলো যৌথ প্রযোজনায় ছবি নির্মাণের নতুন খসড়া নীতিমালা। সোমবার তথ্য মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে নতুন এ নীতিমালা প্রকাশ করা হয়।

যা যা আছে যৌথ প্রযোজনায় ছবি নির্মাণের জন্য প্রকাশিত নতুন নীতিমালায়

# যৌথ প্রযোজনার চলচ্চিত্র নির্মাণের ক্ষেত্রে চুক্তিপত্রের নোটারাইজড কপি, চিত্রনাট্য, নির্মাণ পরিকল্পনা, লোকেশন বর্ণনা, প্রি-প্রোডাকশন ও পোস্ট প্রোডাকশনসহ শুটিং সিডিউল, বাজেট, বিনিয়োগের পরিমাণ, পরিচালক, শিল্পী এবং অন্যান্য কলাকুশলীর নামের তালিকা স্পষ্টভাবে উল্লেখ এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংযুক্ত থাকতে হবে।

# যৌথ প্রযোজনার ক্ষেত্রে প্রধান চরিত্রে অভিনয়শিল্পী এবং মুখ্য কারিগরি কর্মীসহ শিল্পী ও কলাকুশলী সমানুপাতিক হারে নিয়োগের বিষয়টি শতভাগ নিশ্চিত করতে হবে।

# শিল্পী এবং কলাকুশলী কমবেশি করার প্রয়োজন হলে আবেদনপত্রে তার যৌক্তিকতা প্রদর্শন করতে হবে।

# কাহিনীকার, সংলাপ রচয়িতা, চিত্রনাট্যকার, গীতিকার, সুরকার, সঙ্গীত পরিচালক, গায়ক-গায়িকা, নৃত্য পরিচালক, কোরিওগ্রাফার, চিত্রগ্রাহক, সম্পাদকসহ চলচ্চিত্র নির্মাণের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত অন্যান্য ব্যক্তি কারিগরি কর্মী ও কলাকুশলী হিসেবে বিবেচিত হবেন।

নীতিমালাতে আরও বলা হয়, নির্মিতব্য চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্য পরীক্ষা ও পর্যালোচনাসহ পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাব পরীক্ষা করে নির্মাণের অনুমোদনের জন্য সুপারিশ বা মতামত দিতে এবং নির্মাণ শেষে চলচ্চিত্র দেখে প্রদর্শনের জন্য চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডে দাখিলের ছাড়পত্র দিতে বিএফডিসিতে (বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন) একটি বাছাই কমিটি গঠন করতে হবে। এ কমিটির সভাপতি হবেন বিএফডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক। এ ছাড়া কমিটিতে সদস্য হিসেবে থাকবেন তথ্য মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজন সমিতির প্রতিনিধি, পরিচালক সমিতির প্রতিনিধি, শিল্পী সমিতির প্রতিনিধি, প্রদর্শক সমিতির প্রতিনিধি ও সরকারের মনোনীত একজন চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব। বিএফডিসির পরিচালক এই কমিটিতে সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন।

বাংলাদেশ-ভারত যৌথ সিনেমা প্রযোজনার নামে প্রতারণার অভিযোগ তুলে তা বন্ধের দাবিতে আন্দোলন শুরু হয় গত জুন থেকেই। সেসময় একজোট হয়ে রাজপথে নামেন বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পী, পরিচালক ও কলাকুশলীরা।  গত ১৮ জুন দুপুরে এফডিসি ভিত্তিক ১৪টি সংগঠন সেন্সর বোর্ড ঘেরাও করে তাদের প্রতিবাদও জানায়।  তার আগে সকালে এফডিসির সামনে সমবেত হন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি ও বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা। তাদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে এফডিসি ভিত্তিক শিল্পী-কলাকূশলীদের আরো ১২টি সংগঠন। তারপর থেকে কিছু দিনের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছিল যৌথ প্রযোজনায় ছবি নির্মাণের সমস্ত কার্যক্রম। নতুন নীত প্রকাশের পর সেই প্রতিবন্ধকতা এবার বোধহয় কাটবে যৌথ প্রযোজনায় ছবি নিমার্ণে নিয়োজিত প্রযোজনা সংস্থাগুলোর।