image-48487

মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন দলের নেত্রী অং সান সু চি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা বাতিল করেছেন। সু চির মুখপাত্র আজ বুধবার এই তথ্য জানান। এদিকে গতকাল মঙ্গলবার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইউ কিউ জেইয়া বার্মিজ সংবাদমাধ্যমগুলোকে এ খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেন।

ইউ কিউ জেইয়া বলেন, সু চি-র এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে আরো বেশি করে মনোযোগ দেয়া। দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা জরুরি। লোকজন আতঙ্কের মধ্যে আছেন। এ সময়ে তার দেশে থাকা উচিত। সামগ্রিক বিষয়ে আরও মনোযোগ দিতে তিনি দেশেই থাকছেন।

অধিবেশনে সু চি-র বদলে দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ভান থিও মিয়ানমারের প্রতিনিধিত্ব করবেন বলেও জানান তিনি।

নিউইয়র্কে শুরু হওয়া এবারের অধিবেশন চলবে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। সাধারণ বিতর্ক শুরু হবে ১৯ সেপ্টেম্বর। ‘স্থিতিশীল পৃথিবীতে মানুষের জন্য শান্তি আর মর্যাদাপূর্ণ জীবনের সংগ্রাম’ কে উপজীব্য করা হয়েছে এবারের অধিবেশনের।

অধিবেশনে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর সেখানকার সেনা বাহিনীর নির্যাতন, হত্যা, তাদের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেয়া এবং প্রাণ বাঁচাতে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়ায় সৃষ্ট সংকট তুলে ধরবে বাংলাদেশ। এদিকে, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোয়ানও জানিয়েছেন, তিনি জাতিসংঘের ৭২তম সাধারণ অধিবেশনে রোহিঙ্গা ইস্যু গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরবেন। এমন পরিস্থিতিতে মিয়ানমারের পক্ষ থেকে অধিবেশনে না যাওয়ার ঘোষণা এলো। বার্মিজ কর্তৃপক্ষের ধারণা সু চি জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিলে চলমান রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞের ঘটনায় বিশ্বনেতাদের তোপের মুখে পড়তে পারেন।