dse

সাম্প্রতিক সময়ে পুঁজিবাজারে চাঙ্গাভাব দেখা দিয়েছে। একদিকে তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ার দর বাড়ছে, অন্যদিকে বাজারের লেনদেনের পরিমাণও বাড়ছে। এমনি ইতিবাচক অবস্থায় পুঁজিবাজারে আসার তড়িঘড়ি করছে অন্তত ১২ কোম্পানি। কোম্পানিগুলো ফিক্সড প্রাইস ও বুক-বিল্ডিংয়ের মাধ্যমে বাজারে আসার প্রক্রিয়া চালাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানগুলো পুঁজিবাজার থেকে টাকা নিয়ে কোম্পানির উন্নয়ন, ঋণ পরিশোধ ও আইপিও বাবদ ব্যয় করবে।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, পুঁজিবাজারে আসার পাইপ লাইনে থাকা কোম্পানিগুলো হচ্ছে – এসটিএস হোল্ডিংস লিমিটেড (এ্যাপোলো হাসপাতাল), ইফকো গার্মেন্টস এন্ড টেক্সটাইল লিমিটেড, ঢাকা রিজেন্সি হোটেল এন্ড রিসোর্ট লিমিটেড, রানা মটরস লিমিটেড, হ্যামপ্যাল রি ম্যানুফ্যাকচারিং বাংলাদেশ লিমিটেড, মারহাবা স্পিনিং, ভিএফএস থ্রেড ডায়িং লিমিটেড এবং আমান কটন লিমিটেড। তালিকায় থাকা অন্য কোম্পানি বসুন্ধরা পেপার ইতোমধ্যে আইপিও বিডিংয়ের অনুমোদন পেয়েছে। অন্যদিকে, ওয়াইম্যাক্স আইপিওতে আসার অনুমতি নিয়ে চাঁদা সংগ্রহের প্রক্রিয়ায় রয়েছে এবং নাহি এ্যালুমিনিয়াম আইপিওতে আসার অনুমতি পেয়ে চাঁদাসংগ্রহের প্রস্তুতিতে রয়েছে। এছাড়া, আশুগঞ্জ পাওয়ারকোম্পানিলিমিটেড নামে একটি কোম্পানি পুঁজিবাজারে আাসার ইচ্ছা পোষণ করেছে।

কোম্পানিগুলো বিভিন্ন মার্চেন্ট ব্যাংকের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (বিএসইসি) আবেদন করেছে। আর কয়েকটি কোম্পানিইতোমধ্যে রোড শো সম্পন্ন করেছে।

জানা গেছে, পুঁজিবাজারে আসতে ইচ্ছুক কোম্পানিগুলোর মধ্যে পাঁচটি প্রতিষ্ঠান বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে বাজারে আসতে চায়। এ কোম্পানিগুলো হচ্ছে এসটিএস হোল্ডিংস লিমিটেড (এ্যাপোলো হাসপাতাল), বসুন্ধরা পেপার মিল, আমান কটন এবং ঢাকা রিজেন্সি হোটেল এন্ড রিসোর্ট। সম্প্রতি কোম্পানিগুলো বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে বাজারে আসার জন্য রোডশো সম্পন্ন করেছে এবং বসুন্ধরা পেপার মিল শিগগির বিডিং প্রক্রিয়া শুরু করবে।

সূত্র মতে, বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে এসটিএস হোল্ডিংস লিমিটেড ৭৫ কোটি টাকা সংগ্রহ করবে। অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে ঢাকা রিজেন্সি হোটেল এন্ড রিসোর্ট লিমিটেড ৬০ কোটি টাকা, বসুন্ধরা পেপার ২০০ কোটি টাকা এবং আমান কটন ৮০ কোটি টাকা সংগ্রহ করতে ইচ্ছুক। অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে হ্যামপ্যাল রি-ম্যানুফ্যাকচারিং বাংলাদেশ লিমিটেড ২০ কোটি টাকা, ইফকো গার্মেন্টস এন্ড টেক্সটাইল লিমিটেড ২০ কোটি টাকা, মারহাবা স্পিনিং ৫০ কোটি টাকা, ভিএফএস থ্রেড ডায়িং লিমিটেড ২২ কোটি টাকা তুলতে চায়।

পুঁজিবাজারে নতুন শেয়ারের তালিকাভুক্তির বিষয়ে পুঁজিবাজার বিশ্লেষক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবু আ্হমেদ বলেন, দীর্ঘ মন্দা পরিস্থিতি কাটিয়ে পুঁজিবাজার স্থিতিশীলতার পথে রয়েছে। এমন অবস্থায় নতুন কোম্পানি আসবে এটা খুব ভালো খরব। তবে যে সকল কোম্পানি বিনিয়োগকারীদের কাছে থেকে অর্থ সংগ্রহ করবে তাদের আর্থিক ভিত্তি কেমন তা খতিয়ে দেখার দায়িত্ব বিএসইসির। কারণ দুর্বল কোম্পানি যদি পুঁজিবাজারে আসার সুযোগ পায়, তবে তা বিনিয়োগকারী এবং বাজারের জন্য ভালো হবে না। বিএসইসিকে সেই বিষয়ে নজরদারি বাড়াতে হবে।

ডিএসইর সাবেক প্রেসিডেন্ট ও বর্তমান পরিচালক মো. রকিবুর রহমান বলেন, বর্তমানে পুঁজিবাজার ইতিবাচক ধারায় এগুচ্ছে। সামনে বাজার আরও ভালো হবে। সুতরাং বাজারের চাহিদা মেটানোর জন্য নতুন কোম্পানি, নতুন শেয়ার দরকার। তিনি বলেন, বাজারে যদি ভালো শেয়ারের যোগান আসে তবে তা বিনিয়োগকারীদের জন্যও ভালো, বাজারের জন্যও ভালো। কারণ ভালো শেয়ারে বিনিয়োগ করলে বিনিয়োগকারীরা বছর শেষে ভালো রির্টান পাবে। আর কোম্পানি যদি ভালো মানের না হয়, তাহলে শেষ ভোগান্তি বিনিয়োগকারীদেরই হবে, যা বাজারের জন্যও সুখকর হবে না।