dudok

বদলে যাচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আজ থেকে সরকারি খাতের আর্থিক অনিয়মের সঙ্গে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হবে আমেরিকার ফেডারেল ব্যুরো অব ইন্টিলিজেন্সের (এফবিআই) আদলে।

গ্রেফতারের পর ভারতের সিবিআইর আদলে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করবে দুদক। দুদক বলছে, দুর্নীতি করে কেউ যাতে পালিয়ে যেতে না পারে সে জন্য কমিশনের চলমান দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। এ জন্য বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনী থেকে ২০ সদস্যের একটি ইউনিট প্রেষণে পাঠানো হয়েছে দুদকে। নিজস্ব বাহিনীর মতোই এফবিআই ও সিবিআই স্টাইলে একমাত্র রাষ্ট্রীয় দুর্নীতি প্রতিরোধ সংস্থা দুদকের আগামী দিনের কার্যক্রম পরিচালিত হবে। আপাতত ১৫ সেবা খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংস্থায় অভিযান চালানো হবে। কয়েক দিন আগে অভিযানের কৌশল নির্ধারণ করা হয়েছে। দুদকের একজন মহাপরিচালকের নেতৃত্বে চারজন পরিচালকও থাকছেন গ্রেফতার প্রক্রিয়ায়। পাশাপাশি চলবে সব ধরনের আইনি কার্যক্রম। জানতে চাইলে দুদক মহাপরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ মুনীর চৌধুরী বলেন, আজ থেকে দুর্নীতিবিরোধী চলমান কার্যক্রম নতুন মাত্রায় রূপ পাবে। কমিশনের মামলার আসামি গ্রেফতার, তল্লাশি, আলামত জব্দকরণ, আসামি আদালতে সোপর্দ এবং সর্বোপরি দুদকের দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে নিয়োজিত টিমের সার্বিক নিরাপত্তা বিধানে এ ইউনিটের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। মহাপরিচালক বলেন, কমিশনের আর্মড ইউনিটের সদস্যরা মামলার অনুসন্ধান বা তদন্তকাজে সরাসরি অংশগ্রহণ করবেন না। তারা শুধু দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে সম্পৃক্ত থাকবেন। দুদক আইন অনুসারে কমিশনের কার্যক্রমে সব বাহিনী ও কর্তৃপক্ষের দুদককে সহযোগিতা করার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এর আগে ২০১৬ সালের ১৫ মার্চ দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ চেয়ারম্যান হিসেবে যোগদান করেই পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে মতবিনিময় করেন। এসব মতবিনিময়ের আলোকে ২০১৭ সালেই কমিশন পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে এক বছর মেয়াদি কৌশলগত কর্মপরিকল্পনা, ২০১৭-এর অনুমোদন দেয়। এ বছরের মার্চ মাসে কমিশনের আর্মড ইউনিট গঠনের বিধিমালা প্রণয়ন করা হয়। কর্মপরিকল্পনা অনুসারে চলতি বছরই আর্মড ইউনিট গঠনের অঙ্গীকার করেছিল কমিশন। এর আগে বৃহস্পতিবার দুদকে যোগ দেয় পুলিশের ২০ জন সদস্য। এ ছাড়া কমিশনের গ্রেফতার অভিযান জোরদার করতে দুদকে ২০ সদস্যবিশিষ্ট আর্মড ইউনিটের যাত্রা শুরু হয়েছে। অনুসন্ধান ও তদন্তকাজকে অধিক গতিশীল করা এবং পুলিশের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতেই দুদকের এ উদ্যোগ। ভবিষ্যতে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় দুদক থেকে পৃথক আর্মড ইউনিট গঠন করা হবে। দুদক সূত্র জানায়, আসামি ধরতে দিনে কিংবা রাতে সব সময়ই দুদককে অভিযান চালাতে হয়। এ জন্য দুদকের কর্মকর্তারা সব সময় পুলিশের সাহায্য নিয়ে থাকেন। অনেক সময় এ কাজে পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করতে গিয়ে নানা জটিলতার কারণে গ্রেফতার অভিযান ব্যর্থ হয়। এসব বিবেচনা করে পৃথক আর্মড ইউনিট করা হয়েছে।