bb

কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা গ্রুপকে একচেটিয়া ঋণ দেয়া যাবে না। ঋণ বিকেন্দ্রীকরণ করতে হবে। এছাড়া ভোক্তা ঋণে আরও সতর্ক হওয়ার পাশাপাশি ব্যাংকিং খাতে ঋণ খেলাপিদের শক্ত হাতে দমনের নির্দেশ দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংক।

রোববার বিকেলে বাংলাদেশ ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স হলে ব্যাংকার্স সভায় এসব নির্দেশনা দেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির। বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরী, আবু হেনা মোহা. রাজী হাসান, এস এম মনিরুজ্জামান, নির্বাহী পরিচালক আব্দুর রহিম, শুভঙ্কর সাহা, অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান এবং মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী আনিস এ খানসহ প্রায় সব ব্যাংকের এমডি প্রধান নির্বাহীরা উপস্থিত ছিলেন।

সভা শেষে ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে ব্যাংকগুলোকে ঋণ বিকেন্দ্রীকরণের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। কারণ কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা গ্রুপকে একচেটিয়া ঋণ দিলে তাতে খেলাপি হওয়ার আশঙ্কা থাকে বেশি। এছাড়া ভোক্তা ঋণের ক্ষেত্রে আরও সাবধানতা বজায় রাখতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

বৈঠক সূত্র জানায়, উন্নত প্রযুক্তির এমআইসিআর চেক প্রচলনের পরও ব্যাংকে জালিয়াতির ঘটনা ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। প্রতি মাসেই ২০-২৫টি চেক জালিয়াতির অভিযোগ আসছে বাংলাদেশ ব্যাংকে। একটি সংঘবদ্ধ চক্র চেক জালিয়াতির মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এটি বন্ধে ছাপানোর সময় নির্ধারিত নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্যগুলো নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এছাড়া যারা স্বাক্ষর করতে পারেন না সেই সব নিরক্ষর ব্যক্তিরা কীভাবে চেকের মাধ্যমে লেনদেন করতে পারেন সেই বিষয়ে আলোচনা হয় ব্যাংকার্স সভায়।

জানা গেছে, সম্প্রতি ব্যাংকিং খাতে চেক জালিয়াতির ঘটনা হঠাৎ বেড়ে গেছে। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে চেক জালিয়াতি সংক্রান্ত অভিযোগ ছিল ২০৯টি। আর এবার প্রতি মাসেই ২০-২৫টি চেক জালিয়াতি সংক্রান্ত অভিযোগ বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা পড়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, সাধারণ চেকের জালিয়াতি ঠেকানো ও লেনদেনে গতি আনতে ম্যাগনেটিক ইঙ্ক ক্যারেক্টার রিকগ্নিশন (এমআইসিআর) নামের আধুনিক চেক বাংলাদেশে চালু করা হয় ২০০৯ সালে। ২০১০ সালের এপ্রিল থেকে তা সব ব্যাংকের জন্য বাধ্যতামূলক করা হয়। এ চেকের নির্ধারিত কিছু নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য রয়েছে। যেগুলো পরিবর্তন ও নকল করা প্রায় অসম্ভব। চেক ছাপানোর সময় নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্যগুলো সঠিকভাবে চেকে সন্নিবেশিত করা হয়েছে কিনা তা সুনিশ্চিত করতে হবে। এটি করা গেলে চেকের মাধ্যমে জালিয়াতি অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

সভায় দেশে কার্যরত সব ব্যাংককে ইন্টারনেট সুবিধার আওতায় আনার বিষয়ে আলোচনা করা হয়। এছাড়া ৫৭ টি ব্যাংকের মধ্যে মাত্র ৯টি ব্যাংকের মোবাইল অ্যাপ রয়েছে। ব্যাংকগুলোর মোবাইল অ্যাপ বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।