Muksudpur photo7september 17

সরদার মজিবুর রহমান (গোপালগঞ্জ):

নারী নির্যাতন ( ধর্ষণ চেস্টা ) মামলা প্রত্যাহার না করায় আসামী পক্ষ বাদীপক্ষের বাড়ীর চারি দিকে পাটকাঠির বেড়া দিয়ে একটি পরিবারকে গৃহবন্দি করে রখেছে আসামী এবং তার সাঙ্গপাঙ্গরা। এতে ওই পরিবারের ৩ নারী ২ শিশুসহ আট সদস্য গৃহবন্দি রয়েছে।

ভুক্তভোগী রাবেয়া বেগম জানায় গত ৭ জুলাই রাতে তার বিবাহিত ২২ বছরের মেয়ে ঘরের পেছনের টিউবওয়েল থেকে পানি আনতে গেলে মৃত আমজেদ শেখের ছেলে ফারুক শেখ সহ ২/৩ জন মিলে তাকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ চেষ্টা চালালে সে চিৎকার করলে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে। পরে ফারুক শেখ সহ অজ্ঞাতনাম ২/৩ জনকে আসামী করে নারী নির্যাতনের মামলা দায়ের করা হয়। পরে আসামী ফারুক কিছু দিন হাজত খেটে জামিনে আসার পর মামলা প্রত্যাহারের চাপ দিতে থাকে।
সরেজমিনে দেখা গেছে উপজেলার মোচনা ইউনিয়নের ডুমুরিয়া গ্রামের রাবেয়া বেগম রাবির পরিবারটি এই মানবেতর জীবন যাপন করছে। একই বাড়িতে বসবাসকারী বেশী জমির মালিকরা তাদের প্রভাব খাটিয়ে বাড়ির চারপাশে বেড়াদিয়ে বাড়ি থেকে বের হবার সকলপথ বন্ধ করে দিয়েছে। বাড়ি থেকে বের হবার কোন পথ না থাকায় বন্দি অবস্থায় জীবনযাপন করছে পরিবারটি।
মামলা প্রত্যাহার না করায় ৫ সেপ্টেম্বর রাতে একই বাড়ির প্রভাবশালীগণ মিলে ফারুক শেখের পক্ষ নিয়ে মিমাংশা করতে চাইলে বাদী গ্রামের মাতুব্বর এবং ইউপি চেয়ারম্যানকে নিয়ে ঘটনার মিমাংশা করতে চাইলে ক্ষিপ্ত হয়ে ঘরের চারপাশে তাৎক্ষনিকভাবে বাশের বেড়া দেয় ।
এসময় যারা উপস্থিত থেকে বেড়া দেওয়ায় সার্বিক সহযোগিতা করেন একই গ্রামের জাহাঙ্গীর মোল্যা, দেলোয়ার মোল্যা, আকরাম শেখ, টিপু মোল্যা, সোবাহান মোল্যা, ওবাইদুল, জাফর শেখ। ভুক্তভোগি রাবেয়া জানায় তারা সবাই র্ধষণ চেস্টাকারি ফারুক শেখের সহযোগি।
৬ সেপ্টেম্বর সকালে এঘটনার জানাজানি হলে সাংবাদিকগণ ঘটনাস্থলে পৌছালে স্থানীয় সাহেদ আলীর মোল্যার ছেলে টিপু মোল্যা সাংবাদিক বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করতে বাধা দেয় এবং সাংবাদিকদের সাথে বাগবিত-া করলে মোচনা ইউপি চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেনের সহযোগিতায় সাংবাদিকগণ বড়ির ভেতরে প্রবেশ করে ঘটনাস্থল থেকে সংবাদের সত্যতা সংগ্রহ করেন। এসময় আকরাম শেখ এবং দেলোয়ার মোল্যা জানায় নারী নির্যাতন মামলা প্রত্যাহার করতে বলা হলে বাদী মামলা না তোলায় আমাদের বাড়ি সন্মান ক্ষুন্ন হয়েছে। তাই বাধ্য হয়ে এই ব্যবস্থা গ্রহন করেছে। এ খবর লেখা পর্যন্ত মোচনা ইউপি চেয়ারম্যান এবং স্থানীয় গণ্যমান্যরা সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছেন।

এব্যাপারে মুকসুদপুর থানার ওসি আজিজুর রহমান জানান ভুক্তভোগিরা থানায় অভিযোগ দিলে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।