pani

চট্টগ্রাম নগরীর খালগুলো অবৈধ দখলমুক্ত করতে মেয়রকে আহ্বায়ক করে একটি টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দিয়েছে সরকার।
সোমবার স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে এবিষয়ে আদেশ হাতে পেয়েছেন বলে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, এক সপ্তাহের মধ্যে টাস্কফোর্সের প্রথম সভা আহ্বান করা হবে। সভাতেই কর্ম পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে খাল উদ্ধারের অভিযান শুরু হবে।

প্রায় এক দশক ধরে জলাবদ্ধতার সমস্যায় ভুগতে থাকা বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামে খালগুলো থেকে অবৈধ দখল উচ্ছেদে এই প্রথম কোনো টাস্কফোর্স গঠন করা হলো। মেয়র নিজেও নগরীতে প্রকল্প বাস্তবায়নে সমন্বয়হীনতার অভিযোগ করে আসছিলেন।

নগরীতে বিভিন্ন সরকারি সংস্থার প্রকল্প বাস্তবায়নে সিসিসির ছাড়পত্র নেওয়া বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব দিয়ে জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহের পরিকল্পনা কমিশনে চিঠিও দেন মেয়র।

এরমধ্যেই গত ৯ অগাস্ট ‘চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে খাল পুনঃখনন, সম্প্রসারণ, সংস্কার ও উন্নয়ন’ নামে পাঁচ হাজার ৬১৬ কোটি টাকার একটি প্রকল্প গত ৯ অগাস্ট একনেকে অনুমোদন পায়।

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) উদ্যোগে নেওয়া এ প্রকল্প বাস্তবায়নে স্থানীয় সরকার, গণপূর্ত ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠনেরও নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

ওই প্রকল্পের আওতায় খালের মাটি খনন, কাদা অপসারণ, নালা সংস্কার ও নির্মাণসহ বৈদ্যুতিক বাতি স্থাপনের মত কাজও সিডিএ বাস্তবায়ন করবে।

এই প্রকল্প অনুমোদনের পর নগরীর দখল হওয়া খাল উদ্ধারে সিটি করপোরেশনের শুরু করা উচ্ছেদ অভিযানে ভাটা পড়ে এবং সিডিএ’র সাথে সিটি করপোরেশনের শীতল সম্পর্কের ইঙ্গিত দিয়ে স্থানীয় গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়।

সর্বশেষ ২৮ অগাস্ট চট্টগ্রাম সাংবাদিক হাউজিং কো-অপারেটিভ সোসাইটির এক অনুষ্ঠানে নগরীর উন্নয়নে ‘মরিয়া’ হলেও প্রয়োজনীয় ‘সহায়তা’ না পাওয়ার আক্ষেপ ঝরেছিল মেয়র নাছিরের কণ্ঠে।

এর মধ্যেই সোমবার স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের এই টাস্কফোর্স গঠনের আদেশ এলো।

সোমবার রাতে মেয়র নাছির বলেন, এতদিন অথরিটি ছিল না। এখন অথরিটি দিয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে কাজ শুরু করা হবে।

“যেসব স্থানে খালের জমিতে অবৈধ স্থাপনা আছে সেখানে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির সংযোগ আছে। কোনো এলাকায় অভিযানে যাওয়ার আগে ঘোষণা দিতে হবে। সেখানে কারখানা, হাসপাতাল বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থাকলে পূর্ব প্রস্তুতি নিতে হবে।”

সব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই টাস্কফোর্স ‘কর্ম পরিকল্পনা’ ঠিক করবে বলে জানান মেয়র।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের ২৮ অগাস্ট তারিখে জারি করা ওই অফিস আদেশটি স্বাক্ষর করেছেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-সচিব মো. মাহমুদুল আলম।

ওই আদেশে বলা হয়, চট্টগ্রাম মহানগরীর প্রাকৃতিক খালসমূহ থেকে অবৈধ দখলদারগণকে উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা ও নিয়মিত মনিটরিং করার জন্য একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হলো।

টাস্কফোর্সে আহ্বায়ক করা হয়েছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (সিসিসি) মেয়রকে এবং সদস্য সচিব করা হয়েছে সিসিসি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে।

পাশাপাশি এই টাস্কফোর্সে বিভাগীয় কমিশনার, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ), পানি উন্নয়ন বোর্ড, জেলা প্রশাসন, চট্টগ্রাম মহানগর ‍পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের একজন করে প্রতিনিধি সদস্য হিসেবে থাকবেন।

এছাড়া টাস্কফোর্সে খাল সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের কাউন্সিলরকেও সদস্য করা হয়েছে।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের ওই আদেশে টাস্কফোর্সের কার্যপরিধিও নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে।

এরমধ্যে আছে নগরীর প্রাকৃতিক খালগুলো থেকে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ, খালের দুপাশে বেদখল হওয়া সরকারি জায়গা উদ্ধার, খাল থেকে মাটি উত্তোলন, খাল খনন এবং ভরাট হওয়া খালের মাটি ও আর্বজনা সরিয়ে খালের স্বাভাবিক প্রবাহ অব্যাহত রাখা।

খালগুলো অবৈধ দখলকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দায়িত্বও দেয়া হয়েছে টাস্কফোর্সকে।

উদ্ধার হওয়া জমিতে আবার যাতে অবৈধ স্থাপনা নির্মিত না হয় সে বিষয়ে মনিটরিং এর দায়িত্বও পালন করবে টাস্কফোর্স।

খালগুলোর উভয়পাশে প্রয়োজনীয় প্রকল্প গ্রহণ এবং প্রতি মাসে একটি সভা করে গৃহীত কার্যক্রম স্থানীয় সরকার বিভাগ ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়কে জানাবে টাস্কফোর্স।