dollar

আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স প্রবাহ বেড়েছে।
চলতি অগাস্ট মাসের ২৫ দিনে মোট ১০৪ কোটি ডলারের রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন তারা।

মাসের বাকি দিনগুলোতে রেমিটেন্স প্রবাহের হার আরও বেড়ে সবমিলিয়ে এ মাসে মোট রেমিটেন্সের পরিমাণ ১৩০ কোটি ডলারে গিয়ে ঠেকতে পারে বলে ধারণা করছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্মকর্তারা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র শুভঙ্কর সাহা  বলেন,“ঈদের ছুটি শুরু হতে আরও কয়েক দিন বাকি আছে। প্রতিবারের মতো এবারও এই কয়েকদিনে (২৬ থেকে ৩১ অগাস্ট)পরিবার-পরিজনের ঈদের খরচ মেটাতে বেশি করে অর্থ দেশে পাঠাবেন প্রবাসীরা।

“তাই আমরা প্রত্যাশা করছি অগাস্ট মাসে মোট রেমিটেন্সের পরিমাণ ১৩০ কোটি ডলারের মতো হতে পারে।”

রেমিটেন্স বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়- পহেলা অগাস্ট থেকে ২৫ অগাস্ট পর্যন্ত ১০৩ কোটি ৯১ ডলারের রেমিটেন্স দেশে পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা।

চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে ১১১ কোটি ৫৫ লাখ ডলার পাঠিয়েছিলেন তারা, যা গত বছরের জুলাই মাসের চেয়ে ছিল ১১ শতাংশ বেশি।

গত ২০১৬-১৭অর্থবছরের প্রায় পুরো সময় ধরে পড়তির দিকে থাকা রেমিটেন্স প্রবাহের ঊর্ধ্বগতি বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য সুখবরই দিচ্ছে।

দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি রেমিটেন্সের নিম্নগতি সরকারের নীতি-নির্ধারকদের কপালে ভাঁজ ফেলেছিল।

রেমিটেন্স বাড়াতে মাশুল না নেওয়াসহ নানা ঘোষণাও দিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

২৫ দিনে ১০৪ কোটি ডলারের মধ্যে সরকারি ছয় বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ২৯ কোটি ৯ লাখ ডলার। দুটি বিশেষায়িত ব্যাংকের মাধ্যমে আসে ৮৯ লাখ ডলার।

এসময়ে ৩৯টি বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিটেন্স এসেছে ৭২ কোটি ৯৫ লাখ ডলার। আর নয়টি বিদেশি ব্যাংকের মাধামে আসে ৯৮ কোটি ডলার।

শুভঙ্কর সাহা বলেন,“প্রবাসীদের ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিটেন্স পাঠাতে আগ্রহী করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়। তারই ইতিবাচক ফল পাওয়া যাচ্ছে এখন।”

মাশুল না নেওয়ার ঘোষণা কার্যকর হলে রেমিটেন্স প্রবাহ আরও বাড়বে বলে মনে করেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই কর্মকর্তা।

বাংলাদেশের জিডিপিতে ১২ শতাংশ অবদান রাখে প্রবাসীদের পাঠানো এই বৈদেশিক মুদ্রা। গত ২০১৬-১৭ অর্থবছরে এক হাজার ২৭৭ কোটি (১২.৭৬ বিলিয়ন) ডলার রেমিটেন্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা,যা ছিল আগের ছয় অর্থবছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।

রেমিটেন্স কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে বিদেশ থেকে অবৈধ পথে টাকা পাঠানোকে দায়ী করছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি।

অন্যদিকে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরবের অর্থনীতির নাজুক অবস্থার কথা বলে আসছে আইএমএফ। সেখানে গিয়ে অনেকের বেকার পড়ে থাকার খবরও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে আসছে।

দেশের রেমিটেন্সের অর্ধেকের বেশি আসে মধ্যপ্রাচ্যের ছয়টি দেশ- সৌদিআরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, ওমান, কুয়েত ও বাহরাইন থেকে।
রেমিটেন্স প্রবাহ বাড়ার প্রভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডারও বেশ মজবুত হয়েছে। সোমবার দিন শেষে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল তিন হাজার ৩৫০ কোটি (৩৩.৫ বিলিয়ন) ডলার। যা অতীতের যে কোন সময়ের চেয়ে বেশি বলে জানান কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্মকর্তারা।

প্রতি মাসে সাড়ে ৩ বিলিয়ন ডলার হিসেবে এই রিজার্ভ দিয়ে ৯ মাসের বেশি সময়েরআমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব।

আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী,একটি দেশের কাছে অন্তত তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর সমপরিমাণ বিদেশি মুদ্রার মজুদ থাকতে হয়।