11

রাজধানীতে চলা পুরনো বাসগুলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে দিয়ে স্বল্প সুদের ঋণে নতুন বাস নামানো হবে বলে জানিয়েছেন পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি এবং পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙ্গা।

নাগরিক দুর্ভোগ নিয়ে রাজধানীর এফডিসিতে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির এক বিতর্ক প্রতিযোগিতায় এ কথা জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণের এক প্রশ্নের জবাবে মশিউর রহমান বলেন, ‘আমি পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি হিসেবে বলছি। ঢাকায় আমাদের টোটাল গণপরিবহন (বাস) আছে সাড়ে ৪ হাজার। ঢাকার মেয়রদের সঙ্গে কথা হয়েছে। আমাদের যে পুরোনো বাস আছে সেগুলো আমরা তাদের দিয়ে দিব। এ বাসগুলো বিনে পয়সায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দেওয়া হবে। মেয়ররা আমাদের নতুন গাড়ি কিনতে ৪ থেকে ৫ শতাংশ সুদে ঋণ পেতে সহায়তা করবেন।’

মশিউর রহমান বলেন, ‘যেসব স্কুল-কলেজে নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থা নেই, আমরা তাদের বাসগুলো দেব। ৪০ জন শিক্ষার্থী বাসে যাতায়াত করতে পারবে। এক বেলা যাবে, এক বেলা আসবে। এতে যানজটও কমে যাবে।’

রাজধানী থেকে পুরনো লক্কড়-ঝক্কড় বাস তুলে নেয়ার জন্য দীর্ঘদিন চেষ্টা চালাচ্ছে বিআরটিএ ও সিটি করপোরেশন। সময়ে সময়ে এসব বাসের বিরুদ্ধে অভিযানও পরিচালিত হয়। কিন্তু সেগুলোর চলাচল বন্ধ করতে পারছে না কর্তৃপক্ষ। পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ ও পরিবহন বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজধানীতে যানজটের একটি বড় কারণ এসব পুরনো বাস।

অনুষ্ঠানে পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি এবং পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী দাবি করেন, দীর্ঘদিনের পুরনো হলেও বাসগুলোর ইঞ্জিন ভালো থাকে। বাসগুলো একটু মেরামত ও রঙ করে দিলেই হবে।

মশিউর রহমান বলেন, ‘আশা করি এক বছরের মধ্যে রাজধানীতে নতুন বাস নামবে। তিন রুটে তিন রঙে বাসগুলো চলবে। উত্তরা থেকে গুলিস্তানের গাড়ি থাকবে এক রঙের, মোহাম্মপুর থেকে গুলিস্তানের গাড়ি আরেক রঙের।’

বর্তমানে যাজটের কারণে তাদের লোকসান হচ্ছে বলে জানান পরিবহন ব্যবসায়ী মশিউর রহমান। তিনি বলেন, ‘উত্তরা থেকে গুলিস্তান আগে আধা ঘণ্টা লাগত, এখন দুই ঘণ্টা লাগে। এতে আমাদের লোকসান হচ্ছে। কারণ আগে যেখানে চারটি ট্রিপ (আসা-যাওয়া) দেয়া যেত, এখন দেয়া যায় এক থেকে দুই ট্রিপ।’