ARU

সংবাদপত্রে প্রথমত চাই নিত্যদিনের খবর। প্রতিদিন দেশ-বিদেশে যে ঘটনাগুলো ঘটছে তার খবর অবশ্যই আমরা সংবাদপত্রে দেখতে চাই। তবে সেই খবরকে অবশ্যই হতে হবে বস্তুনিষ্ঠ। পরিবেশিত বিষয় বস্তুনিষ্ঠ হলেই গ্রহযোগ্যতা পাবে সংবাদপত্র। একটা সময় গেছে আমরা দেশের খবরের জন্য বিবিসির সংবাদের ওপর নির্ভর করতাম।

কারণ তখন দেশের সংবাদমাধ্যমকে বিশ্বাসযোগ্য মনে করতাম না আমরা। সংবাদপত্রকে ভয়-ভীতি লোভ-মোহের উর্ধ্বে উঠে নিরপেক্ষভাবে সংবাদ পরিবেশন করতে হবে। একজন চিকিৎসক হিসেবে আমি মনে করি পাঠককে স্বাস্থ্য সচেতন করতেও সংবাদপত্রের বিশেষ ভূমিকা থাকা দরকার। বর্তমানে আমরা লক্ষ্য করছি, দেশে ক্যান্সারের প্রকোপ বেড়ে চলেছে, ডায়াবেটিস আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে চলেছে। এগুলো জাতীয়ভাবেই আমাদের জন্য দুশ্চিন্তার কারণ।

একটি জাতির অগ্রগতির জন্য নাগরিকদের শারীরিক সুস্থতা ও সুস্বাস্থ্য অন্যতম পূর্বশর্ত। এটা একটি প্রশংসনীয় দিক যে, বর্তমানে দেশের প্রতিটি দৈনিকেরই একটি স্বতন্ত্র স্বাস্থ্য বিষয়ক পাতা রয়েছে। আমি যেটা গুরুত্ব দিয়ে বলতে চাই তা হলো- নিয়মিত স্বাস্থ্য পাতার বাইরেও স্বাস্থ্য সংক্রান্ত জরুরি কিছু বিষয় মূল পাতায় গুরুত্বসহ আসা উচিত।

যেমন এ সময়ে আমাদের স্বাস্থ্যঝুঁকির প্রধান কারণ নিহিত আমাদের লাইফ স্টাইল, খাদ্যাভ্যাস ইত্যাদির মধ্যে। রোগমুক্ত ও নিরাপদ থাকার জন্য লাইফস্টাইল ও খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের প্রয়োজনীয় টিপসগুলো মানুষকে অবশ্যই গুরুত্ব দিয়ে জানানো উচিত।

বিশেষ করে ডায়াবেটিস, ক্যান্সার ইত্যাদি ব্যাধির ব্যাপারে মানুষকে অবহিত করা, সচেতন করা খুবই দরকার। আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশে এ ব্যাপারে সংবাদপত্রের দায়িত্ব নেয়ার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

মাদকের ভয়াল থাবা এখন গোটা দেশকে গ্রাস করছে। বিশেষ করে যুবসমাজকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। মাদক প্রতিরোধে এবং এ ব্যাপারে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে সংবাদপত্রের জোরালো ভূমিকা চাই। ধূমপানও একটি নীরব ঘাতক। ধূমপান প্রতিরোধে দেশে আইন আছে। কিন্তু এই আইনের যথাযথ প্রয়োগ হচ্ছে না। জনগণও এ সম্পর্কে ওয়াকিবহাল নন। সংবাদপত্রে ধূমপান ও মাদকের ক্ষতিকর দিকগুলোর ব্যাপারে সচেতনতামূলক লেখা ছাড়াও এ সংক্রান্ত আইনগুলো গুরুত্ব সহকারে উঠে আসতে পারে। এ সংক্রান্ত আইনের এক একটি ধারা একেকদিন বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা যেতে পারে।

সব সংবাদপত্রেই বিনোদন ও সংস্কৃতির খবর পরিবেশন করা হয়। এ ক্ষেত্রে আমি যেটা প্রত্যাশা করি তা হলো, শুধু সেলিব্রেটিদের খবর নয়, প্রত্যন্ত এলাকার প্রতিভাবানদের সামনে নিয়ে আসতে হবে। সংবাদপত্র সেটা করতে পারে।
সংবাদপত্রে এখন পাঁচমিশেলি বিষয় থাকে। সিরিয়াস সংবাদের সঙ্গে সঙ্গে রম্য ও হাস্যরসাত্মক কিছু বিষয় প্রতিদিনই সংবাদপত্রে থাকলে তা পাঠককে তার স্ট্রেসফুল জীবনে কিছুটা নির্মল আনন্দ দিতে পারে।

সবশেষে বলতে চাই, বাংলাদেশে সংবাদপত্রকে অবশ্যই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আদর্শকে প্রতিষ্ঠায় ব্রতী থাকতে হবে। এ দেশকে এগিয়ে যেতে হলে তাকে মুক্তিযুদ্ধের অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক, সাম্য-সম্প্রীতির চেতনাকে ধরেই এগোতে হবে।

এর জন্য নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের কথা জানাতে হবে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত করতে হবে। সংবাদপত্রের এখানে বিশেষ দায়িত্ব রয়েছে। শুধু ডিসেম্বরে বা মার্চে নয়, সব সময়ই এ দেশের জন্ম ইতিহাস, মানুষের সংগ্রাম, স্বাধীনতার বিষয়গুলো তথ্যপূর্ণ প্রতিবেদনের মাধ্যমে, সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে গুরুত্বসহ সংবাদপত্রে উপস্থাপিত হওয়া উচিত ।