বাংলাদেশের পুলিশ বলেছে, জঙ্গি সন্দেহে এপর্যন্ত যে কয়জন নারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে,তারা সবাই স্বামীর চাপে বা সামাজিক কারণে এই পথে নেমেছে।তবে বিশ্লেষকদের অনেকে মনে করেন নারীরা নিজেরাই উদ্বুদ্ধ হয়ে জঙ্গি তৎপরতায় নেমেছে এমন উদাহরণও কম নয়।

ঢাকার পূর্ব আশকোনায় গত শনিবার জঙ্গি বিরোধী পুলিশের অভিযানের সময় একজন নারীর মৃত্যু এবং দুজনকে আটকের পর বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের সাথে নারীদের জড়িয়ে পড়া নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেছেন, আশকোনায় আহত নারী হতাশা থেকে এবং স্বামীর কারণে জঙ্গি তৎপরতায় জড়িয়েছিল।

তিনি বলেন, বলেন,গ্রেফতারকৃত নারীদের জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে তারা মনে করছেন, স্বামীর চাপে এবং সামাজিক কারণে এই নারীরা জঙ্গি তৎপরতায় নেমেছে।

“যাদের সন্তানের মায়া আছে, তারা কোনোভাবেই এই আত্মঘাতী হওয়ার চেষ্টা করেনি। ফলে, নারী যাদেরকে আমরা জঙ্গি হিসেবে দেখছি, এরা প্রত্যেকেই স্বামীদের চাপে বা অসহায় অবস্থায় তাদের কথা মানতে বাধ্য হচ্ছে।”

তবে পুলিশের এই দাবি মানতে রাজি নন বিশ্লেষকদের অনেকে। তারা মনে করেন, নিজে উদ্বুদ্ধ না হলে শুধু চাপ দিয়ে জঙ্গি তৎপরতায় সম্পৃক্ত করা বেশ কঠিন।

সাংবাদিক টিপু সুলতান বলছিলেন, নিজে থেকেই জঙ্গি তৎপরতায় জড়িয়েছে, এমন কয়েকজন নারী এখনও গ্রেফতার রয়েছে। এমন ঘটনা সংখ্যায় কম কিন্তু নারীদের নিজে উদ্বুদ্ধ হয়ে জঙ্গি তৎপরতায় জড়ানোর উদাহরণ আছে ।

উদাহরণ দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ঢাকার ধানমন্ডির একজন চিকিৎসকের অবিবাহিত কন্যা নিজে উদ্বুদ্ধ হয়ে আইএস এ যোগ দেয়ার জন্য দেশও ছেড়েছিলেন। পরে তুরস্ক থেকে তাকে ফেরত আনা হয়েছে। এছাড়াও ঢাকার অভিজাত পরিবারের আরও দুজন নারী নিজেরা উদ্বুদ্ধ হয়ে সিরিয়া যাওয়ার উদ্যোগ নিলে পুলিশ তাদের ধরে ফেলেছিল।

ঢাকায় র‍্যাব যে পাঁচজন নারীকে জঙ্গি সন্দেহে গ্রেফতার করেছিল। সেই ঘটনাকেও উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে টিপু সুলতান জানিয়েছেন, গ্রেফতার পাঁচজনের একজন ইন্টার্র্নি ডাক্তার এবং বিবাহিত ছিলেন। সেই নারী নিজে উদ্বুদ্ধ হয়েছিলেন। কিন্তু তার স্বামী উদ্বুদ্ধ হননি।

বিশ্লেষকদের অনেকে এটাও বলেছেন, জঙ্গি তৎপরতায় নারীদের জড়িত হওয়ার বিষয়টি ব্যতিক্রমী কিছু নয়।
জঙ্গি তৎপরতার ওপর নজর রাখেন সুইডেন প্রবাসী তাসনিম খলিল। তিনি মনে করেন, জঙ্গি কাজের জন্য একজন নারী শুধু স্বামী নয়, পরিবার থেকেও উদ্বুদ্ধ হতে পারেন।

“একটা পারিবারিক বিষয় অবশ্যই আছে। নারীরা পারিবারিক ভাবে মোটিভেটেড হয়। কিন্তু স্বামীর চাপের বিষয়টা মানতে কষ্ট হয়।”

তবে সাংবাদিক টিপু সুলতানও বলেন, জঙ্গি তৎপরতায় জড়িত স্বামীর মাধ্যমে স্ত্রীরা উদ্বুদ্ধ হতে পারেন।

” ১৯৯৮সালে জেএমবি প্রতিষ্ঠার সময় থেকে তাদের আস্তানাগুলো থেকে নারী এবং শিশুদের পাওয়া যায়। জেএমবি এই ধারা এখনও বহাল রেখেছে, কারণ নারী এবং শিশু সাথে থাকলে বাসা ভাড়া পেতে সুবিধে হয় বা তাদের চলাফেরায় কেউ সন্দেহ করতে পারবেনা।” এসব নারীদের অনেকেই স্বামীদের দ্বারা উদ্বুদ্ধ হয়েছে — এর অবশ্য প্রমাণ রয়েছে।